সিআরটিসিকে সতর্ক করল স্পোটিফাই

সিআরটিসিকে সতর্ক করল স্পোটিফাই - the Bengali Times
সিআরটিসি জানিয়েছে তাদের মূল লক্ষ্য হলো অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে সম্প্রচার আইন আওতায় আনা যাতে কানাডিয়ান কনটেন্ট যথাযথভাবে প্রচারিত হয় এবং দেশীয় শিল্পী ও প্রযোজকরা বৈশ্বিক স্ট্রিমিং অর্থনীতিতে ন্যায্য অংশ পান

কানাডার ফেডারেল সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিআরটিসির সাম্প্রতিক শুনানিতে মিউজিক স্ট্রিমিং জায়ান্ট স্পোটিফাই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে রেডিও স্টেশনের মতো নিয়ন্ত্রণ করলে তা কেবল অপ্রাসঙ্গিকই হবে না, বরং দেশীয় সংগীত শিল্পের উদ্ভাবনী শক্তি ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

শুনানিতে স্পোটিফাইয়ের গ্লোবাল মিউজিক পলিসির পরিচালক জিনিয়া ম্যানিং বলেন, “গত শতকের রেডিও নিয়ন্ত্রণ মডেলকে বর্তমান যুগের স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে প্রয়োগ করা মানে নতুন প্রযুক্তিকে পুরনো কাঠামোতে আটকে দেওয়া। এর ফলে উদ্ভাবনের গতি হ্রাস পাবে এবং কানাডিয়ান শিল্পীদের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে সাফল্যও হুমকির মুখে পড়বে।”

- Advertisement -

তিনি আরও বলেন, অডিও স্ট্রিমিং সেক্টরে বাজার ব্যর্থতার কোনো প্রমাণ নেই, তাই সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের কোনো যৌক্তিকতা নেই। স্পোটিফাই লিখিত জবাবে উল্লেখ করেছে যে, সিআরটিসির এখতিয়ার নেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বাণিজ্যিক দর-কষাকষি বা কনটেন্ট লাইসেন্সিং নিয়ে হস্তক্ষেপ করার। কোম্পানিটি জানান, তাদের রাজস্বের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই শিল্পীদের রয়্যালটি প্রদানে ব্যয় হচ্ছে। অতিরিক্ত বাধ্যতামূলক ফান্ডিং স্কিম চাপানো হলে তা ভোক্তাদের সাবস্ক্রিপশন খরচ বাড়াবে।

অন্যদিকে, বেল ও রজার্সের মতো বড় সম্প্রচার কোম্পানি শুনানিতে বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। তারা দাবি করেছে, প্রচলিত রেডিও ও টেলিভিশন খাতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করলে তারা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ পাবে। রজার্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ সরানো হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রাহকরা উন্নতমানের কনটেন্ট ও প্রযুক্তি ভোগ করতে পারবেন।

সিআরটিসি জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে সম্প্রচার আইন আওতায় আনা, যাতে কানাডিয়ান কনটেন্ট যথাযথভাবে প্রচারিত হয় এবং দেশীয় শিল্পী ও প্রযোজকরা বৈশ্বিক স্ট্রিমিং অর্থনীতিতে ন্যায্য অংশ পান। তবে নিয়ন্ত্রণের মাত্রা কতটা হবে এবং কোন প্ল্যাটফর্ম কতটুকু অবদান রাখবে, তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

সংগীত শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানাডায় স্ট্রিমিং বাজারে স্পোটিফাই, অ্যাপল মিউজিক ও ইউটিউব মিউজিকের সম্মিলিত শেয়ার ৮০ শতাংশের বেশি। অতিরিক্ত নিয়ম চাপানো হলে বড় প্ল্যাটফর্মগুলো কানাডায় বিনিয়োগ কমাতে পারে বা সাবস্ক্রিপশন ফি বাড়াতে পারে, যা ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে, শিল্পীদের সংগঠনগুলো মনে করছে, বর্তমান ব্যবস্থায় স্থানীয় স্রষ্টারা বৈশ্বিক অ্যালগরিদমের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছেন। তাই তারা কনটেন্ট ডিসকভারি তহবিল ও প্রমোশনাল সহায়তা বাধ্যতামূলক করার দাবী করছে।

শুনানির ফলাফল আগামী মাসে প্রকাশিত হবে। এ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে কানাডার ডিজিটাল মিউজিক ইকোসিস্টেম আগামী দশকে কেমনভাবে পরিচালিত হবে যা শিল্পী, প্রযোজক, সম্প্রচার কোম্পানি এবং কোটি কোটি শ্রোতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles