
গ্রীষ্মকালীন বিরতির পর সোমবার আবারও সংসদে ফিরছেন কানাডার সংসদ সদস্যরা। নতুন অধিবেশনের শুরুতেই অর্থনীতিকে আরও সহনশীল ও স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আনার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। তবে সরকারের পরিকল্পনার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যেই শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছে।
সংসদে সরকারি দলের নেতা স্টিভ ম্যাককিনন, কর্মসংস্থানমন্ত্রী প্যাটি হাইডু এবং কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যমন্ত্রী ডোমিনিক লাব্লাঁ একটি নতুন বিল উত্থাপনের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এর বিস্তারিত তুলে ধরবেন। সরকারের দাবি, শ্রমবাজারে অস্থিরতা কমিয়ে সমন্বিত দর-কষাকষির প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
কর্মসংস্থানমন্ত্রী প্যাটি হাইডু এর আগে বলেছেন, সরকার চায় সম্মিলিত দর-কষাকষিতে তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ কমুক। অন্যদিকে ম্যাককিননের ভাষ্য, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের মধ্যে দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানোর পরিবেশ তৈরি করাই প্রস্তাবিত আইনের মূল উদ্দেশ্য। সিবিসি নিউজকে ম্যাককিনন বলেন, কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত লকআউট, ধর্মঘট এবং ধর্মঘটের হুমকি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকারের দৃষ্টিতে, শ্রমবিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে অর্থনীতির ওপর চাপও কমবে।
তবে সরকারের এই ব্যাখ্যায় আশ্বস্ত নন শ্রমিক নেতারা। ইউনিফর এবং কানাডিয়ান লেবার কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, ধর্মঘটের ক্ষমতা সীমিত করার যেকোনো পদক্ষেপ শ্রমিকদের দর-কষাকষির শক্তি দুর্বল করবে। তাদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা উল্লেখ করে সরকার শ্রমিকদের ধর্মঘটের অধিকার আরও সহজে সীমিত করতে পারবে।
বিশেষ করে কানাডা শ্রম বিধির একটি বিতর্কিত ধারা নিয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলোর উদ্বেগ বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেল, বন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ধর্মঘট বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে সরকার এই বিধান ব্যবহার করেছে। শ্রমিক নেতাদের আশঙ্কা, নতুন আইনের মাধ্যমে এই ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপ আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে।
এদিকে শরৎকালীন অধিবেশনে শ্রম আইন ছাড়াও অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে একাধিক উদ্যোগ সামনে আসছে। অর্থমন্ত্রী ফ্রাসোয়াঁ-ফিলিপ শ্যাম্পেইন জ্বালানির ওপর আবগারি শুল্কে অব্যাহতির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য একটি নতুন বিল আনতে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সরকারের শরৎকালীন বাজেট নিয়েও কাজ এগিয়ে চলছে।
রাজনৈতিকভাবেও এবারের অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি একাধিক উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আরও তিনজন এমপি লিবারেল ককাসে যোগ দেওয়ায় সরকার এখন সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। তবে আরও ছয়টি আসন বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এসব আসন আগে লিবারেল, কনজারভেটিভ, ব্লক কুইবেকো এবং এনডিপির দখলে ছিল এবং সেগুলোতে উপনির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
তবে শরৎকালীন অধিবেশনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনার বিষয় হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কানাডার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে। একই সঙ্গে কানাডার সার্বভৌমত্ব নিয়ে ট্রাম্পের ধারাবাহিক মন্তব্যও অটোয়ায় উদ্বেগ তৈরি করেছে।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনায় বছরের শেষ নাগাদ সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কানাডার ইস্পাত ও গাড়ি শিল্পের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি রয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধকে আরও তীব্র করতে পারে।
ফলে নতুন সংসদীয় অধিবেশনে একদিকে শ্রম আইন ও ধর্মঘটের অধিকার, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক দুটি বিষয়ই সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে। অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখার নামে সরকার কতটা পরিবর্তন আনতে পারে এবং সেই পরিবর্তন শ্রমিকদের অধিকারকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়েই এখন মূল বিতর্ক।

