ইউরোপে থাকেন, বিমানে দেশে এসে ভাড়ায় ডাকাতি করেন তিনি!

ইউরোপে থাকেন, বিমানে দেশে এসে ভাড়ায় ডাকাতি করেন তিনি! - the Bengali Times
দেশে ফিরলে জড়িয়ে পড়েন ডাকাতিতে ডাকাতি শেষে আবার ফিরে যান ইউরোপে

ইউরোপে বসবাস, যাতায়াত করেন বিমানে। কিন্তু দেশে ফিরলে জড়িয়ে পড়েন ডাকাতিতে। ডাকাতি শেষে আবার ফিরে যান ইউরোপে। এমনই এক ব্যক্তিকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় ভাড়াটে ডাকাত চক্রের সদস্যদের নিয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অপরাধের নানা কৌশল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাগেরহাটের বাসিন্দা সৈয়দ নাসির উদ্দিন ফ্রান্সে থাকেন। সেখান থেকে বিমানে ভারতে এসে চোরাই পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশে এসে শ্যালক শামীমসহ ভাড়াটে ডাকাতদের নিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়ান তিনি। ডাকাতি শেষে একই পথে আবার ফ্রান্সে ফিরে যান। তবে উত্তরায় একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন নাসির।

- Advertisement -

বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ডাকাত চক্রের আরেক সদস্য পাবনার চাটমোহরের মো. শহিদুল ইসলাম (৪৩)। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ‘মেসার্স কৃষি ভান্ডার’ নামে তার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এলাকায় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও তার বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক, হাতকড়া ও ওয়াকিটকি ব্যবহার করে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শহিদুলের বিরুদ্ধে সাভার, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় ডাকাতিসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। তার সঙ্গে আরও ছয় থেকে সাতজনের একটি দল কাজ করে বলে জানা গেছে। গত ২৩ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় মোহাম্মদ রিয়াজ নামে এক ব্যবসায়ীর ১৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় এই চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, রতন চৌধুরী ওরফে ডালিম নামে এক ব্যক্তি তাদের ভাড়া করেছিলেন।

এ ধরনের অপরাধে জড়িত আরেক ব্যক্তি মো. জলিল মোল্লা। তার বাড়ি বরিশালের খানপুরে। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, ধানমন্ডি ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু এই কয়েকজন নন, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ভাড়াটে ডাকাতদের একাধিক চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রের মধ্যে আল আমীন গ্রুপ, শাওন গ্রুপ ও ডাকাত শহীদ গ্রুপের নাম উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাকরিচ্যুত কিছু সদস্যও এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব চক্র পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকার বিনিময়ে ডাকাতির কাজ করে। চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আসা স্বর্ণের বড় চালান লুটের ক্ষেত্রে তাদের পারিশ্রমিক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

যাত্রীবেশে ডাকাতি

বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ডাকাতির একটি ঘটনায় ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল ভোরে সিঙ্গাপুরগামী কুষ্টিয়ার বাসিন্দা মো. রাশেদুল ইসলাম আক্রান্ত হন। ফ্লাইটের আগে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে তিনি একটি বাসে ওঠেন। পরে যাত্রীবেশে থাকা পাঁচ থেকে ছয়জন ডাকাত বাসটির দরজা বন্ধ করে তার চোখ-মুখ বেঁধে মারধর করে। তার সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে এমইএস ফ্লাইওভারসংলগ্ন জসিমউদ্দীন গোলচত্বরে নামিয়ে দেওয়া হয়।

অপরাধীদের ধরতে নজরদারি

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির বলেন, বিমানবন্দরসহ উত্তরা এলাকায় অপরাধ করে অনেক অপরাধী দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায়। তাদের গ্রেপ্তার করার পর অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়ানোর ঘটনাও ঘটে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ডাকাতি অনেকাংশে কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীরা স্থান, সময় ও কৌশল পরিবর্তন করে অপরাধের চেষ্টা করায় এসব অপরাধ নির্মূলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles