এত বিকল্প থাকতেও ভালোবাসার মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন: ঐশ্বরিয়া

এত বিকল্প থাকতেও ভালোবাসার মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন: ঐশ্বরিয়া - the Bengali Times
অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী

ডেটিং অ্যাপের যুগে পছন্দের মানুষের অভাব নেই। একের পর এক নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। তবু মনের মতো একজন মানুষকে খুঁজে পাওয়া যেন আগের চেয়ে আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এমনটাই মনে করেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী।

সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া টুডে’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেম, ডেটিং অ্যাপ ও আধুনিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে নিজের ভাবনা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। আধুনিক সময়ের ডেটিংকে কেন্দ্র করে নির্মিত নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘#লাভ’-এ অর্জুন দাসের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি।

- Advertisement -

ডেটিং অ্যাপে এত বিকল্প থাকায় ভালোবাসার মানুষ খোঁজা আরও কঠিন হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ঐশ্বরিয়া বলেন, তিনি বিষয়টি সত্যিই এমন মনে করেন। তার মতে, অতিরিক্ত বিকল্প মানুষকে সিদ্ধান্তহীন করে তোলে। কারণ শেষ পর্যন্ত খোঁজটা একজন নির্দিষ্ট মানুষের জন্যই—যাকে নিজের মানুষ মনে হবে।

আধুনিক সম্পর্কের নানা নতুন শব্দ নিয়েও মজার অভিজ্ঞতার কথা জানান ঐশ্বরিয়া। ‘সিচুয়েশনশিপ’, ‘ন্যানোশিপ’ কিংবা ‘বিঞ্জিং’-এর মতো শব্দ এখন প্রেমের জগতেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব শব্দের কিছু তার কাছে বেশ নতুন বলেও জানান অভিনেত্রী।

ঐশ্বরিয়ার মতে, সময় বদলালেও ভালোবাসার ক্ষেত্রে মানুষের মূল চাওয়া বদলায়নি। বরং এত বেশি বিকল্পের ভিড়ে নিজের মানুষটিকে খুঁজে পাওয়ার কাজটাই কঠিন হয়ে গেছে।

ভালোবাসা মানে এখন স্বস্তি

সময় গড়ানোর সঙ্গে ভালোবাসা সম্পর্কে নিজের ধারণাও বদলেছে ঐশ্বরিয়ার। তার কাছে এখন প্রেম মানে শুধু তীব্র আবেগ নয়; বরং স্বস্তি, নিরাপত্তা এবং নিজের মতো করে থাকার স্বাধীনতা।

অভিনেত্রীর ভাষায়, এমন একজন মানুষের প্রয়োজন যার সামনে কোনো ধরনের সংকোচ ছাড়াই নিজেকে প্রকাশ করা যায়। নিজের কথা বলা যায়, নিজের মতো থাকা যায় এবং বিচার হওয়ার ভয় থাকে না। তাই জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে মানসিক সামঞ্জস্যকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।

পাঁচ বছর আগের তুলনায় এখন জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী—এমন প্রশ্নেও একই কথা বলেছেন ঐশ্বরিয়া। তার মতে, এমন একজন মানুষই প্রয়োজন, যার কাছে নিজেকে নিরাপদ মনে হবে। যার সামনে শিশুর মতো সরল হওয়া যাবে এবং কোনো দ্বিধা ছাড়াই সবকিছু বলা যাবে।

প্রেমের আগে বন্ধুত্ব

জীবনসঙ্গীর সঙ্গে বন্ধুত্বকেও এখন অনেক বেশি গুরুত্ব দেন ঐশ্বরিয়া। তার মতে, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিবাহিত বন্ধুদের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সফল দাম্পত্য জীবনে থাকা অনেক দম্পতির মধ্যে তিনি দেখেছেন—তারা জীবনসঙ্গী হওয়ার আগে ভালো বন্ধু ছিলেন। সময়ের সঙ্গে এই বিষয়টির গুরুত্ব তিনি আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন।

পর্দায় অবশ্য ঐশ্বরিয়াকে প্রায়ই তীব্র আবেগ ও প্রেমের গল্পে দেখা যায়। কিন্তু বাস্তব জীবনে তার পছন্দ একেবারেই ভিন্ন।

তীব্র প্রেমে ক্লান্ত

নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সিনেমা ‘মায়ানদী’র প্রসঙ্গ টেনে ঐশ্বরিয়া জানান, সিনেমাটি একজন শিল্পী হিসেবে তার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কোন ধরনের গল্প ও চরিত্রে কাজ করতে চান, সেই বোধ তৈরিতেও সিনেমাটির প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ভালোবাসার গল্পে অবশ্য বাস্তব আবেগই তাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। চরিত্র যতই শক্তিশালী হোক, তার অনুভূতিগুলো সত্যিকারের হলে সেই গল্পে কাজ করতে আগ্রহী হন অভিনেত্রী।

তবে ব্যক্তিগত পছন্দের জায়গায় তিনি তীব্র কিংবা কষ্টদায়ক প্রেমের গল্প থেকে অনেকটাই দূরে থাকতে চান। ঐশ্বরিয়ার ভাষায়, তিনি সুখী ও সহজ-সরল ভালোবাসার গল্প পছন্দ করেন। বিষাদময় প্রেমের গল্প দর্শকের মনে বেশি দাগ কাটতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তার পছন্দ সুখী সমাপ্তি।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles