
পাবনা সদর উপজেলার কুলুনিয়া গ্রামে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও তার সহযোগী ইয়াছিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তার লাশ কয়েক দিন নিজেদের ঘরে লুকিয়ে রেখেছিলেন অভিযুক্তরা। এমনকি শিশুটির সন্ধানে আয়োজিত মানববন্ধনেও অংশ নেন মোস্তফা।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে আইসক্রিম কিনতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কলি। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধান শুরু করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর পাবনা শহরে কলির সন্ধান চেয়ে আয়োজিত মানববন্ধনে অন্যদের সঙ্গে অংশ নেন প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল।
পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কলির বাবা কামাল প্রামাণিক বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তে প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও তার বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন কলি আইসক্রিম কিনতে মোস্তফার দোকানে গেলে তাকে বাড়ির ভেতরে নেওয়া হয়। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন অভিযুক্তরা।
পুলিশ জানায়, হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে ঘরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। কয়েক দিন পর মরদেহে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সেটি অন্যত্র ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। পরে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেন। ঘটনার আলামত মুছে ফেলতে ঘরের মেঝে পরিষ্কার করা হয়েছিল বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
মরদেহ উদ্ধারের পর মোস্তফার ঘরে গিয়ে পুলিশ স্যাভলনের গন্ধ পায়। এরপর সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াছিনকেও আটক করা হয় বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশের তথ্যমতে, মোস্তফা কুলুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। আর ইয়াছিন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার বাসিন্দা এবং নিহত শিশুটির বাবার পাওয়ারলুম কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি মোস্তফার বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।
এদিকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। আদালত রোববার রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

