
রাজশাহীর একটি ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ মাহবুব আলম নামে পুলিশের এক সাবেক কর্মকর্তাকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। পরে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।
মাহবুব আলম চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন। তবে তার দাবি, ফ্ল্যাটে থাকা নারী তার স্ত্রী। যদিও এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি।
এদিকে ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নামে এক নারী নিজেকে মাহবুব আলমের ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ বলে দাবি করেন। মাহবুবের দাবি, চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দিয়েছেন তিনি।
নওগাঁর বাসিন্দা আন্নি একজন নারী উদ্যোক্তা ও বিষয়বস্তু নির্মাতা। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। এর আগে রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে মাহবুবের সঙ্গে ওই নারীকে দুদিন দেখেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। তখন পারিবারিক ও সামাজিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ করেননি বলে জানান আন্নি।
আন্নির ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে গেছেন এবং সেখানে ওই নারীও রয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে তিনি সেখানে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়েন। ভেতর থেকে সাড়া না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা খুলে দেন।
থানায় নেওয়ার সময় মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আন্নিকে তালাক দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত একটি কাগজও পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে ফ্ল্যাটে থাকা নারীর সঙ্গে তার বিয়ের কাবিননামা দেখাতে পারেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, চার দিন আগে আন্নিকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম দিয়েছেন। তবে আন্নির দাবি, তিনি তালাকের কোনো কাগজ হাতে পাননি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
চন্দ্রিমা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, মাহবুব আলম কোনো ছুটি নেননি এবং কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও রাজশাহীতে যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা অপরাধ। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারাই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে মাহবুব আলম চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছিল।

