
দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে কয়েকজন নেতা দিল্লিতে পৌঁছেও গিয়েছিলেন। তবে বৈঠক বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইক জানিয়েছে, বৈঠকটি শেখ হাসিনার দিল্লির বাসভবনে হওয়ার কথা ছিল। এতে দলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে আগে থেকে জল্পনা ছিল।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বৈঠক বাতিল নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। দলটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে কেন সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো কারণ জানাননি।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে নর্থইস্ট নিউজ জানিয়েছিল, শেখ হাসিনার সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির ২৩ জন জ্যেষ্ঠ নেতার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ওই বৈঠকে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা এবং দলের রাজনৈতিক, আইনি ও সাংগঠনিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
বৈঠক বাতিলের খবর এমন সময়ে সামনে এলো, যখন শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল অংশগ্রহণ করা একটি অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ পরে ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে। ভারতও জানায়, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংগঠনের আয়োজন এবং এতে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না।
এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগও নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। দ্য হিন্দুর বরাতে bdnews24 জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নভেম্বরের দিল্লি সফর নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন। বাণিজ্য, গঙ্গার পানি চুক্তিসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় সফরের আলোচ্যসূচিতে থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠক কেন শেষ মুহূর্তে বাতিল হলো—এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত কোনো কারণ পাওয়া যায়নি। দলীয় সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও সেগুলোকে এখনো নিশ্চিত ব্যাখ্যা হিসেবে ধরা যাচ্ছে না।

