ছাইভস্ম থেকে সফলতা, ১০ মাসেই তারা কোটিপতি

ছাইভস্ম থেকে সফলতা, ১০ মাসেই তারা কোটিপতি - the Bengali Times
ব্যর্থতার ছাইভস্ম থেকেই যে সফলতার নতুন গল্প লেখা যায় বেঙ্গালুরুর তরুণ উদ্যোক্তা দম্পতি কুশল রেড্ডি ও চাহাক জৈন যেন সেটিই আবার প্রমাণ করে দেখালেন

ব্যর্থতার ছাইভস্ম থেকেই যে সফলতার নতুন গল্প লেখা যায়, বেঙ্গালুরুর তরুণ উদ্যোক্তা দম্পতি কুশল রেড্ডি ও চাহাক জৈন যেন সেটিই আবার প্রমাণ করে দেখালেন। ক্লাউড কিচেনের ব্যবসায় বড় ধাক্কা খেয়ে চার লাখ রুপি খোয়ানোর পর অনেকেই হয়তো মুখ থুবড়ে পড়তেন। কিন্তু এই দম্পতি তা করেননি। একই ভুল বারবার না করে ব্যবসা পরিচালন পদ্ধতি বদলে ফেলেন তারা, আর তাতেই বাজিমাত। মাত্র দশ মাসের ব্যবধানে নিজেদের নতুন ব্র্যান্ড ‘ক্রিড’-এর মাধ্যমে আজ তারা দুই কোটি রুপির এক সফল ব্যবসার মালিক।

গল্পের শুরুটা কিন্তু মোটেও এমন মসৃণ ছিল না। শুরুতে ক্লাউড কিচেন শুরু করার লক্ষ্যে চার লাখ রুপি বিনিয়োগ করেছিলেন কুশল ও চাহাক। তবে আশানুরূপ গ্রাহক না পাওয়া, অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোর অতিরিক্ত কমিশন ও মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের খরচে শেষ পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়ে তাদের সেই উদ্যোগ। সব হারিয়েও হার না মেনে ব্যবসা বন্ধের পর নিজেদের পরিকল্পনা ঢেলে সাজান তারা। হোম ডেলিভারি নির্ভর ব্যবস্থার বদলে সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে বেছে নেন ফুড ট্রাকের মডেল। বেঙ্গালুরুর জেপি নগরে ফ্রাইড চিকেন ও পনির বার্গারের বিশেষ খাবারের ব্র্যান্ড ‘ক্রিড’-এর যাত্রা শুরু হয়।

- Advertisement -

তবে কেবল ব্যবস্থার পরিবর্তনই নয়, তাদের সফলতার নেপথ্যে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুসংহত ব্যবহার। ফুড ট্রাক তৈরির প্রথম দিন থেকেই চাহাক জৈন পুরো যাত্রাটি ইনস্টাগ্রামে তুলে ধরতে শুরু করেন। একটি ফুড ট্রাক গড়ে তোলার পেছনের গল্প, প্রতিদিনের বাধা ও উদ্দীপনা নেটিজেনদের বেশ আকৃষ্ট করে। ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যখন তাদের প্রথম বার্গারটি বিক্রি হয়, ততক্ষণে কোনো খাবার না খেয়েই ইনস্টাগ্রামে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ তাদের অনুসারী হয়ে যান।

উদ্বোধনের দিনই কাস্টমারদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায় ফুড ট্রাকটির সামনে। প্রথম দিনেই একশর বেশি গ্রাহক আসেন এবং প্রথম তিন দিনেই তারা প্রায় ৩০ হাজার রুপির খাবার বিক্রি করতে সক্ষম হন। সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবসার জনপ্রিয়তা কেবল বেড়েছেই। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে চারশ গ্রাহককে খাবার পরিবেশন করছে ‘ক্রিড’। এতে তাদের দৈনিক বিক্রি দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ রুপিতে। সাম্প্রতিক এক এক্স বার্তায় ক্যাপিটাল লেন্সের প্রথাম নামে এক ব্যক্তি এই অভাবনীয় পরিবর্তনের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। চার লাখ রুপির লোকসান পেরিয়ে মাত্র দশ মাসে দুই কোটি রুপির এই ব্যবসাসফল যাত্রাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন সবাই।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles