
মেয়েদের ভবিষ্যৎ গড়তে মায়ের সংগ্রামের যেন কোনো শেষ নেই। ভারতের মহারাষ্ট্রের বীদ জেলার এক মা সেই সংগ্রামেরই অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। খালি পায়ে শাড়ি পরে ম্যারাথনে দৌড়ে প্রথম হয়েছেন রামাবাই রণবীর। পুরস্কার হিসেবে পাওয়া তিন হাজার রুপি নিজের জন্য নয়, দুই মেয়ের পড়াশোনার জন্য খরচ করবেন তিনি।
রামাবাই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাঁধুনির কাজ করেন। স্বামী মুম্বাইয়ে এক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর দুই মেয়েকে মানুষ করার পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। আর্থিক সংকট থাকলেও মেয়েদের উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন থেকে সরে যাননি তিনি।
সম্প্রতি স্থানীয় একটি সংগঠনের আয়োজনে ম্যারাথনের খবর জানতে পেরে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রামাবাই। অন্য প্রতিযোগীরা দৌড়ানোর উপযোগী পোশাক ও জুতা পরে মাঠে নামলেও তিনি অংশ নেন শাড়ি পরেই।
শুরুতে পায়ে স্লিপার থাকলেও দৌড়ানোর সময় সেটি অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে স্লিপার হাতে নিয়ে খালি পায়েই দৌড়াতে শুরু করেন তিনি। ঠান্ডা রাস্তা, পাথর আর নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ছুটতে থাকেন এই সংগ্রামী মা।
শেষ পর্যন্ত অন্য প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে সবার আগে দৌড় শেষ করেন রামাবাই। তার হাতে ওঠে বিজয়ীর তিন হাজার রুপির পুরস্কার।
বিজয়ের পর রামাবাই বলেন, অনেকেই ম্যারাথনে অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি জয়ী হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। দৌড়ানোর সময় তার চোখের সামনে শুধু মেয়েদের ভবিষ্যৎ ভেসে উঠছিল। পুরস্কারের টাকা দিয়ে মেয়েদের পাঠ্যবই কিনে দেওয়ার কথা জানান তিনি।
রামাবাই যেখানে রান্নার কাজ করেন, সেখানেই মেয়েদের একজন পড়াশোনা করছে। একদিকে মা প্রতিদিন রান্না করে সংসার চালান, অন্যদিকে মেয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়—দুজনের এই লড়াই যেন একই স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলা।
রামাবাইয়ের মেয়ে পূজাও ওই ম্যারাথনে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। পূজা জানান, তিনিই মাকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। তবে মা যে প্রথম হয়ে যাবেন, তা তিনি নিজেও ভাবতে পারেননি।
তিন হাজার রুপির এই পুরস্কার হয়তো অর্থের হিসাবে খুব বেশি নয়। কিন্তু একজন মায়ের কাছে সেটিই হয়ে উঠেছে দুই মেয়ের স্বপ্নপূরণের আরেকটি ধাপ। খালি পায়ে দৌড়ে পাওয়া সেই অর্থ দিয়েই তিনি কিনবেন মেয়েদের বই—আর এগিয়ে নেবেন তাদের শিক্ষার পথ।

