শিক্ষিকার যৌন নির্যাতনের শিকার ছাত্র, বছরের কারাদণ্ড

শিক্ষিকার যৌন নির্যাতনের শিকার ছাত্র, বছরের কারাদণ্ড - the Bengali Times
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এক কিশোর শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের দায়ে সাবেক এক শিক্ষিকাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এক কিশোর শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের দায়ে সাবেক এক শিক্ষিকাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস ধরে ওই শিক্ষার্থীকে যৌনভাবে শোষণ করেন ৪৫ বছর বয়সি অ্যালিসন হ্যাভেম্যান-নিডরাখ। এ সময়ে তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার খুদে বার্তা আদান-প্রদান হয়।

২৮ আগস্ট সাজা ঘোষণা করা হয়। মনমাউথ কাউন্টির প্রসিকিউটর রেমন্ড এস. সান্তিয়াগো ৩১ আগস্ট এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। অ্যালিসন জ্যাকসন টাউনশিপের দুই সন্তানের মা এবং ফ্রিহোল্ড ইন্টারমিডিয়েট স্কুলের সাবেক বিশেষ শিক্ষা বিভাগের শিক্ষিকা।

- Advertisement -

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শরৎ থেকেই ওই শিক্ষার্থীকে ঘনিষ্ঠ করার প্রক্রিয়া শুরু করেন অ্যালিসন। তিনি কিশোরটির খেলাধুলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতেন এবং তাকে বিভিন্ন উপহার দিতেন। একপর্যায়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছেও তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীর মধ্যে বিপুলসংখ্যক খুদে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছিল। কিশোরটি এক বন্ধুর কাছে তাদের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানিয়েছিল।

২০২৪ সালের জুনে স্কুলের এক সহকারী প্রধান শিক্ষক পুলিশকে বিষয়টি জানান। একই সময়ে কিশোরটির মা ছেলের আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তিনি জানতে পারেন, তার মেয়ে একবার ভাইকে শিক্ষিকার গাড়িতে দেখেছিল। এ ছাড়া ছেলেটি রাতে দীর্ঘ সময় মুঠোফোন ব্যবহার করছে—এ বিষয়টিও তার নজরে আসে।

প্রথমে কিশোরটি বাবা-মাকে কিছু ঘটেনি বলে জানালেও পরে মায়ের কাছে শিক্ষিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা প্রকাশ করে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক চলছিল এবং বিভিন্ন স্থানে তাদের দেখা হতো।

এরপর মনমাউথ কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়ের বিশেষ ভুক্তভোগী বিভাগ ও স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারীদের দাবি, শিক্ষিকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রায় ছয় মাস ধরে চলেছিল।

সাজা ঘোষণার শুনানিতে ভুক্তভোগী কিশোর আদালতকে জানায়, ঘটনাটি অন্য শিক্ষার্থীরা জেনে যাওয়ায় তাকে বিদ্যালয়ে নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। এর প্রভাব তার পড়াশোনাতেও পড়েছে। সে আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সে নিজেকেই ঘটনার জন্য দায়ী মনে করত।

আদালতে কিশোরটি শিক্ষিকাকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা জানালে অ্যালিসন কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজের বক্তব্যে তিনি তার কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

তবে মনমাউথ কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক জিল জি. ও’ম্যালি সাবেক শিক্ষিকাকে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করেন। আদালতে বলা হয়, ওই ঘটনার কারণে কিশোরটির মানসিক অবস্থারও গুরুতর অবনতি হয়েছিল। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে সে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিল বলে বিচারক উল্লেখ করেন।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অ্যালিসন প্রথম ডিগ্রির গুরুতর যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। ২৮ আগস্ট তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কারাদণ্ডের অন্তত ৮৫ শতাংশ মেয়াদ পূর্ণ করার আগে তার প্যারোলের সুযোগ বিবেচনা করা হবে না বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনাটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের আড়ালে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণের ঝুঁকি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আচরণ শনাক্ত ও প্রতিরোধের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles