
জামালপুর শহরের চালাপাড়া এলাকায় নিজ ঘর থেকে রোকসানা আক্তার শিলা (৩০) নামে এক নার্সের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। মরদেহে দাগ থাকার দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চালাপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে শিলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি শহরের সেবা জেনারেল হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাবার নাম আব্দুর রশিদ। কয়েক বছর ধরে ওই বাড়িতে ১৪ বছর বয়সী ছেলে রাহাতকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।
পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে শিলার মা ছফিরন নেসা, ছেলে রাহাত ও তার বোন বাড়িতে যান। তারা গিয়ে দেখেন, ঘরের সদর দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। এ সময় ঘরের ভেতর থেকে দুর্গন্ধও পান তারা। শিলাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে রাহাত ছাদের সিঁড়ির ওপরের টিনের চালা খুলে ঘরে প্রবেশ করে। সেখানে মায়ের মরদেহ দেখতে পায় সে।
পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে শিলার মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন মাদক সেবন করতেন। তার ঘরের জানালার পাশে মাদক সেবনের কিছু সরঞ্জামও দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন এক প্রতিবেশী। তবে এসব দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বাড়ির জমি নিয়ে শিলার খালাতো ভাই ফরিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। কিছুদিন আগে এ বিরোধের জেরে শিলাকে মারধরও করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা। এ কারণে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবারের সদস্যরা।
শিলার বোনের স্বামী আশরাফুল ইসলাম বলেন, জমি নিয়ে ফরিদের সঙ্গে তার শ্যালিকার বিরোধ ছিল। কিছুদিন আগে তাকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। মরদেহে কয়েকটি দাগ দেখা গেছে দাবি করে তিনি বলেন, এসব দাগ কীসের, তা তারা জানেন না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
তবে স্থানীয় এক প্রতিবেশী শিলার মৃত্যুর পেছনে মাদক গ্রহণের বিষয়টি থাকতে পারে বলে ধারণা করেছেন। তার দাবি, শিলার ঘরের পাশে মাদক সেবনের জন্য ব্যবহৃত কিছু ইনজেকশন পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
নিহতের মা ছফিরন নেসা বলেন, তার মেয়ে সুস্থ ছিলেন এবং বাড়িতে একাই থাকতেন। মঙ্গলবার দুপুরে তারা গিয়ে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, শিলার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
শিলার কর্মস্থল সেবা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং জমি নিয়ে বিরোধে অভিযুক্ত ফরিদ ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

