মাদকের সূত্রে সখ্য, মোস্তাফিজের ‘চাহিদা মেটাতে’ গৃহবধূকে ধর্ষণের পরিকল্পনা

মাদকের সূত্রে সখ্য, মোস্তাফিজের ‘চাহিদা মেটাতে’ গৃহবধূকে ধর্ষণের পরিকল্পনা - the Bengali Times
র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার মামুনুর রশিদ মামুন এবং তার সহযোগী মুরাদ ছবি সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেপ্তার মামুনুর রশিদ ওরফে মামুনের সঙ্গে মামলার প্রধান আসামি মোস্তাফিজুর রহমানের সখ্য গড়ে উঠেছিল মাদক ব্যবসার সূত্রে। র‍্যাবের দাবি, মোস্তাফিজ তার অনৈতিক ইচ্ছার কথা মামুনকে জানালে ভুক্তভোগী নারীকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে সে।

র‍্যাব জানায়, মামুন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে প্রতি মাসে কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করত সে। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক ব্যবসার কারণে বিভিন্ন সময় জায়গা পরিবর্তন করত মামুন। একপর্যায়ে সে ভুক্তভোগী নারীর বাসায় প্রায় তিন থেকে চার মাস সাবলেট হিসেবে অবস্থান করে। এই সময় ভুক্তভোগীর স্বামীর সঙ্গেও তার পরিচয় হয়।

ঘটনার আগে মোস্তাফিজ তার অনৈতিক ইচ্ছার কথা মামুনকে জানায়। এরপর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভুক্তভোগীর স্বামীকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডেকে নেওয়া হয়। তাকে বলা হয়, মোস্তাফিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকার ব্যবস্থা করেছে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভুক্তভোগীর স্বামীকে মীর মশাররফ হোসেন হলের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার সঙ্গে মোস্তাফিজসহ কয়েকজনের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর কৌশলে ভুক্তভোগী নারীকে তার স্বামীর মাধ্যমে মামুনের কাপড়চোপড় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের সামনে আসতে বলা হয়। রাতের দিকে ওই নারী কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে সেখানে পৌঁছালে মামুন ও মোস্তাফিজ তাকে কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় বলে র‍্যাব জানায়।

র‍্যাবের দাবি, সেখানে ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। একই সময়ে ভুক্তভোগীর স্বামীকেও হল থেকে চলে যেতে বলা হয়।

বাড়িতে ফিরে ভুক্তভোগী নারী তার স্বামীকে বিষয়টি জানান। এরপর তার স্বামী থানায় গিয়ে মামলা করেন।

এ ঘটনায় বুধবার রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা থেকে মামুনুর রশিদ ওরফে মামুনকে এবং নওগাঁ থেকে তার সহযোগী মুরাদকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

র‍্যাব জানিয়েছে, প্রায় দুই দশক আগে ঢাকায় এসে গার্মেন্টসে কাজ শুরু করেছিল মামুন। পরে আশুলিয়ায় গিয়ে চাকরির পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি মাদক ব্যবসায় যুক্ত হয় সে। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদকসংক্রান্ত আটটি মামলা রয়েছে এবং এর আগে একাধিকবার কারাভোগ করেছে।

এর আগে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মোস্তাফিজকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ঘটনার পর মোস্তাফিজসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীর সনদ স্থগিত এবং তিনজনকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

র‍্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন বলেন, বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পড়াশোনা করানো অভিভাবকদের স্বপ্ন। এসব প্রতিষ্ঠানে মাদক ব্যবসা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles