
মাঠে গোলবন্যার চেয়েও বর্তমানে মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ড নিয়ে স্পেনের সংবাদমাধ্যমে বেশি আলোচিত হচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। পেশির ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকলেও, এই সময়ে তার বিদেশ ভ্রমণ এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ অন্দরমহলে অস্বস্তি ও অসন্তোষ বাড়ছে।
এমবাপ্পে বাম পায়ের পেশির চোটে ভুগছেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে বিশ্রামের অনুমতি দেওয়া হলেও, এই সময়ে তার ইতালি এবং প্যারিস ভ্রমণ ক্লাব কর্তৃপক্ষের বিশেষ পছন্দ হয়নি। সম্প্রতি ইতালির কালিয়ারিতে স্প্যানিশ অভিনেত্রী এস্তার এক্সপোসিতোর সাথে তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিতর্ক চরমে পৌঁছায়।
ইউরোপীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর দাবি, রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ তার এ সফরগুলোকে ‘অতিরিক্ত প্রকাশ্য’ হিসেবে দেখছে। ক্লাবের কর্মকর্তাদের মতে, যখন দল লা লিগার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত, তখন একজন তারকা খেলোয়াড়ের এমনভাবে জনসমক্ষে ছুটি কাটানো ক্লাবের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।
কোচের এ মন্তব্যকে অনেকেই এমবাপের প্রতি পরোক্ষ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। যদিও তিনি জানিয়েছেন যে, ছুটির বিষয়টি খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত ব্যাপার, তবুও ড্রেসিংরুমে ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের মতো নিবেদিত খেলোয়াড়দের পাশে এমবাপের এমন আচরণ বৈষম্য তৈরি করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, এমবাপে হয়তো রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এ মৌসুমকে আর গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি নিজেকে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য শতভাগ ফিট রাখতে চান এবং সে কারণেই ইনজুরি কাটিয়ে দ্রুত মাঠে ফেরার চেয়ে বিশ্রামে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো জানিয়েছে, অনেক ভক্তই মনে করছেন এমবাপে মানসিকভাবে ইতোমধ্যেই মৌসুম শেষ করে দিয়েছেন।
মাঠের বাইরে বিতর্ক থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে এমবাপ্পে অনন্য। ২০২৫-২৬ মৌসুমে এখন পর্যন্ত তিনি ৪১ ম্যাচে ৪১টি গোল করেছেন। তবে রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে কেবল গোলই সব নয়, সেখানে খেলোয়াড়ের নিবেদন এবং শৃঙ্খলাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।

