
কানাডায় পেস্তা বাদাম ও সংশ্লিষ্ট খাদ্যপণ্যে সালমোনেলা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা পাবলিক হেলথ এজেন্সি অব কানাডা (PHAC) নিশ্চিত করেছে, এখন পর্যন্ত মোট ১০৫ জন এ ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের প্রথম দিকের হিসাবের তুলনায় নতুন করে ২৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও বেড়েছে। সর্বশেষ পাঁচজন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় এ সংখ্যা এখন ১৬। মার্চের শুরুতে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর থেকে সেপ্টেম্বারের শুরু পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে নতুন রোগী শনাক্ত হয়ে আসছে।
সালমোনেলা সংক্রমণের উৎস হিসেবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে পেস্তা বাদামসংশ্লিষ্ট খাবার। কানাডিয়ান ফুড ইন্সপেকশন এজেন্সি (CFIA) জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৬টি পণ্য প্রত্যাহারের (রিকল) ঘোষণা দিয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে – পেস্তা বাদাম কার্নেল, কিছু নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের বাকলাভা, পেস্তা যুক্ত আইসক্রিম, পেস্তা ভিত্তিক চকোলেট পণ্য। অধিকাংশ প্রত্যাহারকৃত পণ্যে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ সংক্রমণের বিস্তৃতি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে পেস্তা-সমৃদ্ধ দুবাই-স্টাইল চকোলেট পণ্যের দিকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এসব চকোলেটের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকায় সংক্রমণ আরও দ্রুত ছড়িয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১০৫ হলেও এর বাইরেও আরও অনেকে সালমোনেলায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন, যারা এখনও স্বাস্থ্য বিভাগকে জানাননি বা চিকিৎসা নিতে আসেননি।
সালমোনেলা সংক্রমণে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা যায় – জ্বর, কাঁপুনি, বমিভাব, ডায়রিয়া, বমি, পেটে ব্যথা, তীব্র মাথাব্যথা।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উপসর্গ ৬ থেকে ৭ দিনের মধ্যে কমে এলেও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের পরামর্শ দিচ্ছেন, পেস্তা বাদাম ও সংশ্লিষ্ট পণ্য কেনার সময় রিকল তালিকা যাচাই করে নেওয়ার এবং যেসব পণ্য প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেগুলো অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করার জন্য।

