কানাডায় আমেরিকান স্পিরিট ফিরিয়ে আনার অনুরোধ

কানাডায় আমেরিকান স্পিরিট ফিরিয়ে আনার অনুরোধ - the Bengali Times
কানাডা সরকার যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো ও কানাডার মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কানাডা ইউনাইটেড স্টেটস মেক্সিকো এগ্রিমেন্ট CUSMA এর আওতাধীন পণ্যের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরোপিত প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে

কানাডা সরকার যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কানাডা-ইউনাইটেড স্টেটস-মেক্সিকো এগ্রিমেন্ট (CUSMA) এর আওতাধীন পণ্যের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরোপিত প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে “ইতিবাচক পদক্ষেপ” বলে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লিকার শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ডিস্টিলড স্পিরিটস কাউন্সিল অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস (DISCUS)। তবে সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, যতক্ষণ না কানাডার সব প্রদেশ তাদের শেলফে আমেরিকান অ্যালকোহল পণ্য পুনরায় স্থান দেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শুক্রবার ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর থেকে অধিকাংশ পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। এই ঘোষণার পরপরই DISCUS এক বিবৃতি দিয়ে জানায় “এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত, তবে বাস্তব প্রভাব তখনই দেখা যাবে যখন আমেরিকান স্পিরিট পুনরায় কানাডিয়ান বাজারের শেলফগুলোতে ফিরবে।”

- Advertisement -

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে কানাডার ওপর আরোপিত শুল্কের জবাবে, গত মার্চে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ ও অঞ্চল মার্কিন অ্যালকোহল পণ্য তাদের সরকারি লিকার স্টোরের শেলফ থেকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এখনো পর্যন্ত অন্টারিও, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, ম্যানিটোবা, কুইবেক, আটলান্টিক কানাডা এবং উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলোতে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্টিলাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে DISCUS। তাদের মতে, “কানাডার খুচরা শেলফগুলো থেকে আমেরিকান স্পিরিট সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত কেবল মার্কিন ডিস্টিলারদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং প্রদেশগুলোর রাজস্বেও ঘাটতি সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে এই পদক্ষেপ কানাডার ভোক্তা ও আতিথেয়তা খাতের ওপরও অপ্রয়োজনীয় চাপ ফেলছে।”

ডিস্টিলড স্পিরিটস কাউন্সিল অব ইউনাইটেড স্টেটস এবং স্পিরিটস কানাডা যৌথভাবে জানায়, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কানাডায় যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি স্পিরিটের বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৬.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

শুধু মার্কিন স্পিরিটই নয়, এই সময় কানাডিয়ান স্পিরিটের বিক্রিও কমেছে ৬.৩ শতাংশ, এবং অন্যান্য দেশ থেকে আমদানিকৃত স্পিরিটের বিক্রিতে হ্রাসের হার ৮.২ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে মার্চ মাসে কানাডায় স্পিরিট বিক্রি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি কেবল বাণিজ্যিক নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কার শুল্কযুদ্ধ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে উত্তেজিত করে তোলে। কানাডা সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত, বিশেষত প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহার, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক স্বাভাবিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেয়।

তবে মার্কিন শিল্পসংগঠনগুলোর দাবি, শুধুমাত্র শুল্ক প্রত্যাহার যথেষ্ট নয় বরং কানাডার স্থানীয় প্রশাসনগুলোকে দ্রুত মার্কিন পণ্যগুলিকে শেলফে ফিরিয়ে আনতে হবে, যাতে উভয় দেশের ব্যবসা ও ভোক্তা উভয়ই উপকৃত হয়।

মোটের ওপর কানাডার শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য কাঠামোকে আরও দৃঢ় করার পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে বাস্তব সুফল পেতে হলে স্থানীয় প্রাদেশিক সরকারের কার্যকর সহযোগিতা এবং নীতিগত নমনীয়তা জরুরি। না হলে, যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্টিলারদের ক্ষতি এবং কানাডার রাজস্ব ঘাটতি দুটিই দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠতে পারে।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হচ্ছে, বৈশ্বিক বাণিজ্য শুধুমাত্র অর্থনীতির বিষয় নয় এটি রাজনীতি, কূটনীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার সূক্ষ্ম ভারসাম্যের প্রতিফলন।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles