
অন্টারিওতে অ্যালকোহল খুচরা বিক্রির বাজারে বড় ধরনের রদবদল শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রদেশজুড়ে অ্যালকোহল বিক্রির ক্ষেত্রে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা দি বিয়ার স্টোর এখন ক্রমশ ব্যবসা সংকোচনের পথে। ইতিমধ্যে কয়েক ডজন শাখা বন্ধের পর নতুন করে আরও ১০টি শাখা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে এসব শাখার কার্যক্রম স্থায়ীভাবে গুটিয়ে নেওয়া হবে।
নতুন তালিকায় যে ১০টি বিয়ার স্টোরের কার্যক্রম বন্ধ হবে, তার মধ্যে টরন্টোর দুটি এবং অটোয়া, হ্যামিল্টন ও বার্লিংটনের একটি করে শাখা রয়েছে। এছাড়া প্রদেশের আরও কয়েকটি শহরের স্টোরও বন্ধ হয়ে যাবে। বন্ধ হতে যাওয়া শাখাগুলো হলো – ২০২০ অ্যাপলবাই লাইন, বার্লিংটন (ON L7L 6M6), ৩৩২২৫ হাইওয়ে #১৭, ডিপ রিভার (ON K0J 1P0), ২২৯ ড্যানডার্ন স্ট্রিট এস, হ্যামিল্টন (ON L8P 4K8), ১২৩৩৪ হাইওয়ে #৪১ পিও বক্স ১৭, নর্থব্রুক, ১৯১০ সেন্ট লরেন্ট বুলভার্ড, অটোয়া, এরি স্ট্রিট এ ও #২১ হাইওয়ে, রিজটাউন, ৪৪৭৯ কিংস্টন রোড, স্কারবোরো, ৪১ ফ্রন্ট স্ট্রিট, সিওক্স লুকআউট, ৬৩৬ গ্রিনউড এভিনিউ, টরন্টো এবং ৪৬৮১ হাইওয়ে #৭, ইউনিয়নভিল।
এ সিদ্ধান্তের মূল কারণ সরকারের নীতিগত পরিবর্তন। ডগ ফোর্ড নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত বছর থেকে ধাপে ধাপে কনভিনিয়েন্স স্টোর, সুপারমার্কেট এবং বিগ বক্স রিটেইলারদের ওয়াইন, বিয়ার ও রেডি-টু-ড্রিংক ককটেল বিক্রির অনুমতি দেয়।
ফলস্বরূপ, বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। আগে যেখানে বিয়ার স্টোর ছিল একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস, এখন ক্রেতারা সহজেই পাশের মুদি দোকান বা কনভিনিয়েন্স স্টোর থেকেই অ্যালকোহল কিনতে পারছেন। এই পরিবর্তন ভোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক হলেও, বিয়ার স্টোরের বিক্রিতে ব্যাপক ধস নামিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এক চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত অন্তত ৩০০টি বিয়ার স্টোর চালু রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অর্থাৎ চলতি বছর জুড়ে বেশ কিছু শাখা বন্ধ হলেও নির্দিষ্ট সংখ্যক শাখা খোলা রাখতে হবে। কিন্তু ২০২৬ সাল থেকে এই সীমাবদ্ধতা আর থাকবে না। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এরপর একে একে আরও বহু শাখা বন্ধ হতে পারে।
অন্টারিওর অর্থনীতি ও সমাজে এ সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে: কয়েক হাজার কর্মী ইতিমধ্যেই ছাঁটাইয়ের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে ছোট শহরগুলোতে যেখানে বিয়ার স্টোর স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম নিয়ামক, সেখানে চাকরির সুযোগ আরও কমে যাবে। ভোক্তাদের সুবিধা: অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে এ পরিবর্তন ইতিবাচক। প্রতিযোগিতা বাড়ার কারণে দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রেতারা এখন তাদের দৈনন্দিন কেনাকাটার সঙ্গে সহজেই অ্যালকোহলিক ড্রিংকস কিনে নিতে পারছেন।
বাজার কাঠামোর রূপান্তর: এক সময় কানাডার খুচরা অ্যালকোহল বিক্রির মূল স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত দি বিয়ার স্টোর এখন দ্রুত সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে। বাজারের নতুন কাঠামোতে তাদের উপস্থিতি আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে আসতে পারে।
অন্টারিওতে অ্যালকোহল বিক্রির ইতিহাসে দি বিয়ার স্টোর দীর্ঘদিন ধরেই একটি পরিচিত নাম। কিন্তু সরকারি নীতি ও বাজার প্রতিযোগিতার যুগল চাপে প্রতিষ্ঠানটি আজ বড় রূপান্তরের মুখোমুখি। ভোক্তাদের জন্য পরিবর্তনটি স্বাধীনতা ও সুবিধা বয়ে আনলেও, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালের পর কোন রূপে টিকে থাকবে দি বিয়ার স্টোর, সেটাই এখন অন্টারিওবাসীর কৌতূহলের বিষয়।
This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

