এলটিসি নিবাসীদের প্রতিশ্রুত ৪ ঘণ্টা সেবা দিতে ব্যর্থ অন্টারিও সরকার

এলটিসি নিবাসীদের প্রতিশ্রুত ৪ ঘণ্টা সেবা দিতে ব্যর্থ অন্টারিও সরকার - the Bengali Times
অন্টারিও সরকার লং টার্ম কেয়ার এলটিসি নিবাসীদের জন্য প্রতিদিন গড়ে চার ঘণ্টা প্রত্যক্ষ সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে

অন্টারিও সরকার লং-টার্ম কেয়ার (এলটিসি) নিবাসীদের জন্য প্রতিদিন গড়ে চার ঘণ্টা প্রত্যক্ষ সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের নিজস্ব প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি।

২০২১ সালে প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ সরকার আইন পাস করে ঘোষণা দিয়েছিল, প্রদেশের প্রবীণ নিবাসীরা নার্স, পার্সোনাল সাপোর্ট ওয়ার্কার, ফিজিওথেরাপিস্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে চার ঘণ্টা সেবা পাবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রথম দুই বছরে গড়ে তিন ঘণ্টা, এরপর ধীরে ধীরে তা বাড়িয়ে ২০২৫ সালের মার্চ নাগাদ চার ঘণ্টা পূর্ণ করা।

- Advertisement -

প্রথম দুই ধাপ পূর্ণ হলেও শেষ ধাপে এসে সরকার পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ সরকারি প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে অন্টারিওর এলটিসি হোমগুলোতে প্রতিদিন গড়ে তিন ঘণ্টা ৪৯ মিনিট প্রত্যক্ষ সেবা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার ৯৫.৫ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

লং-টার্ম কেয়ার মন্ত্রী নাতালিয়া কুসেনদোভা-বাশতার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, যোগ্য কর্মীর ঘাটতিই মূলত এই ব্যর্থতার প্রধান কারণ। সাম্প্রতিক সময়ে প্রদেশে রেকর্ডসংখ্যক নতুন এলটিসি শয্যা যুক্ত হয়েছে এবং পুরনো শয্যা আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন ৩০ হাজার শয্যা তৈরি করা। কিন্তু শয্যা বাড়লেও তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কর্মী নিয়োগ সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যোগ্য নার্স ও পিএসডব্লিউ পাওয়া যাচ্ছে না, আর যারা আছেন তাদের ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কাজের চাপ, মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি এবং তুলনামূলক কম মজুরি অনেক কর্মীকে বেসরকারি খাত বা হাসপাতালের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

যদিও লক্ষ্য পূরণ হয়নি, তবু খাতের প্রতিনিধিরা এটিকে অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। অন্টারিওর অলাভজনক লং-টার্ম কেয়ার হোমগুলোর সংগঠন অ্যাডভান্টেজ অন্টারিও-র প্রধান নির্বাহী লিসা লেভিন বলেন,

মানবসম্পদ নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ থাকলেও প্রায় পূর্ণ লক্ষ্য অর্জন নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। এটা প্রমাণ করে সরকার চেষ্টা করছে।”

কোভিড-১৯ মহামারির সময় এলটিসি খাতে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছিল। প্রবীণ নিবাসীদের মধ্যে মৃত্যুহার ছিল উদ্বেগজনক। তখনই সরকার চার ঘণ্টার সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আইনি কাঠামো তৈরি করে। বর্তমানে প্রদেশজুড়ে প্রায় ৮৫ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা এলটিসি হোমে বসবাস করছেন। এদের বেশিরভাগই প্রবীণ, যারা দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি কাজে সহায়তা চান।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের অঙ্গীকার পূর্ণ করতে না পারা জনগণের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল থাকলেও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শুধু নতুন শয্যা তৈরি নয় পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের ধরে রাখা, তাদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং কর্মপরিবেশ উন্নত করাই হবে প্রকৃত সমাধান।

সরকার বলছে, তারা লক্ষ্য অর্জনে অবিচল এবং দ্রুতই চার ঘণ্টার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে। তবে বাস্তবতা হলো, প্রতিশ্রুত সময়সীমার ভেতরে লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় অনেকের মনে সন্দেহ জেগেছে অন্টারিও সরকার কি সত্যিই চার ঘণ্টার সেবা নিশ্চিত করতে পারবে, নাকি এটি কেবল কাগজে-কলমেই থেকে যাবে?

বিষয়টি এখন শুধু সেবা-প্রাপ্ত প্রবীণদের নয়, বরং তাদের পরিবার এবং সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরও আস্থার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles