চারদিনের কুবেক শহর ভ্রমণ

চারদিনের কুবেক শহর ভ্রমণ - the Bengali Times
ভাগ্যিস প্রতিমা সাথে ছিল নইলে এই ছবি কই পেতাম

চারদিনের কুবেক শহর ভ্রমণ শেষে ঘরে ফিরেছি। এই ভ্রমণের মূল শিক্ষা হলো, যতোই তুমি কামান দাগো, অগ্নিগোলা বেরুবে না, বেরুবে ফুলের তোড়া।

এবার কুবেক সফরদলে ছিলাম নীলিমা, আমি আর আমাদের মেয়ে। সাথে ভগিনী প্রতিমা ও তার মেয়ে।

- Advertisement -

৮৫০ কিলোমিটার দূরের শহর কুবেক নিয়ে আমার আগ্রহ অনেক দিনের। একযুগ হলো কানাডায় অভিবাসী হলেও ফরাসি ঐতিহ্যের শহর কুবেকে আমাদের যাওয়া হয়ে ওঠেনি আগে। দূরত্বই ছিল প্রধান বাধা। এবার সব বাধা পেরিয়ে বাপ-বেটি গাড়ি চালাতে চালাতে চলে গেছি নিউ ফ্রান্স নামের সেই এলাকাটিতে।

একথা সত্যি কুবেকে রয়েছে ফরাসি ঐতিহ্যের ছড়ানোছিটানো সব উপাদান, কিন্তু আমরা যেহেতু আগেই প্যারিস দেখে ফেলেছি, কুবেক দেখে আপ্লুত হবার মতো ব্যাপার হয়নি।

ফরাসিরা সেই ১৫৩৩ সালে এই মাটিতে প্রথম পা রেখেছিল। জ্যাক কার্তিয়ারের নেতৃত্বে শুরু করেছিল উপনিবেশ গড়তে। উপনিবেশের যা যা বৈশিষ্ট্য তার কিছুই বাদ যায়নি কুবেকেও। বিতাড়িত হয়েছিল এলাকার আদি বাসিন্দারা। ফরাসি অভিবাসীরা পোতা শুরু করেছিল নিজেদের সংস্কৃতির খুঁটি।  প্রতিটি জায়গার নাম বদলেছিল নিজেদের মতো করে। নদী বা পাহাড়ের নামও বদলাতে দ্বিধা করেনি সামান্য।

চারদিনের কুবেক শহর ভ্রমণ - the Bengali Times

তবুও ভাগ্য ভালো কুবেকের নাম বদলায়নি ঔপনিবেশিক শক্তি। এনগনকুইন শব্দ ‘কুবেক” আজও রয়ে গেছে স্বমহিমায়।  ইতিহাস বলছে ১৬০৮ সালে ফরাসি দখলদার অভিবাসী স্যামুয়েল দ্য চ্যাপলিন এই নামকরণ করেন৷

চারদিনে একটা জিনিস বুঝেছি কুবেকের মানুষেরা নিজেদেরকে খুব কমই কানাডীয়ান ভাবতে পছন্দ করেন। তারা কুবেকিয়ান এটাই তাদের অহঙ্কার।  আর তাই চারপাশে কুবেকের শত শত পতাকা ভবনগুলোর শীর্ষজুড়ে,  কিন্তু কানাডার পতাকা দেখিনি একটিও। বইয়ের যতোগুলো দোকানে ঢুকেছি, নিরানব্বই ভাগ বই ফরাসি ভাষায় লেখা। কথাবার্তায় ফরাসি সার্বক্ষণিক মাধ্যম হলেও ইংরেজিও জানেন অনেকেই।

ভাগ্যিস প্রতিমা সাথে ছিল। নইলে এই ছবি কই পেতাম!

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles