টরন্টো চিঠি

টরন্টো চিঠি - the Bengali Times
আজকাল একটা জিনিশ নিয়ে খুব বেশি কষ্ট পাচ্ছি পৃথিবীতে মানুষের প্রতি মানুষের ঘৃণা অবহেলা বেড়েই চলেছে

মধুবন,

কেমন আছিস বন্ধু? তোর চিঠি পেলাম কয়েকদিন হলো। আমরা কিন্তু একটা ভালো জিনিশ চালু করলাম রে, প্রতি মাসে একে অপরকে চিঠি লেখা। ভেবে দেখ চিঠির মাধ্যমে মনের কথা নিজের ভাবনাটুকু যেভাবে সুন্দর করে প্রকাশ করা যায় আর অন্য কোনো মাধ্যমে কি আমরা একে অপরকে জানাতে পারি কথাগুলো বল?

- Advertisement -

আজকাল একটা জিনিশ নিয়ে খুব বেশি কষ্ট পাচ্ছি। পৃথিবীতে মানুষের প্রতি মানুষের ঘৃণা অবহেলা বেড়েই চলেছে। বিনা অপরাধে নিরীহ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। নির্যাতিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। টেলিভিশন খোল, পত্রিকার পাতা খোল শুধুই খারাপ সংবাদ। মানুষের মৃত্যু মানুষকে বিনা কারণে হত্যার সংবাদ। নানা দেশে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এক শ্রেণি উগ্রপন্থিদের কারণে। সে মানুষগুলো তাদের মৃত্যুর এক মিনিট আগেও জানতে পারছে না কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের চলে যেতে হবে। মানুষের জন্য কোনো স্থানই যেন এখন নিরাপদ নয়। এ কেমন পৃথিবীতে আমরা এখন বাস করছি? আমাদের আগামী প্রজন্মকে আমরা কোথায় রেখে যাচ্ছি বলতে পারিস? আমরা কি দিন দিন স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা হারিয়ে ফেলছি?

এসব দেখে শুনে আমার মনেও একটা ভয় বাসা বাঁধতে শুরু করেছে। মাঝে মাঝেই মনে হয় কে যেন আমার দ্বারে এসে কড়া নাড়ছে। দরজা খুললেই আমাকে বলবে, তোমার যাবার সময় হয়েছে, তুমি তৈরি তো? আমি সজোরে দরজা বন্ধ করে দেই, বলি না যাবো না, কেন যাবো? আমার কতো কাজ এখনো বাকি। কিন্তু সত্যি কথা কী জানিস মধু, একটা ভয় আমার মনে বাসা বাঁধছে। আপন মনে জিনিশপত্র গুছিয়ে রাখি। আমি চলে গেলেও কারো যেন অসুবিধা না হয়। মেয়েকে বলি, মারে দেখে রাখ আমার সোনা গয়না কোথায় আছে। মেয়ে মুখ ঘুরিয়ে চলে যায়। ছেলেকে বলি, বাবা জানিস তো তোদের নামে যে উইল করেছি সে কাগজপত্র কোথায় রেখেছি? ছেলে হেসে চলে যায়, যেতে যেতে বলে, মা তুমি ভেবো না, তুমি মরে গেলে আমরা সব খুঁজে বের করবো। এবার শোন আমার স্বামীর কথা, ছেলে-মেয়েদের সাথে আমার কথাবার্তা শোনে, কম্পিউটার থেকে মুখ তুলে আমার দিকে তাকিয়ে বলে, আমি নাকি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। আমার ডাক্তার দেখানো দরকার। চিন্তা কর মধু, কোনো স্বামী যদি তার স্ত্রীকে মানসিক রোগী বলে কেমন লাগে?

শোন মধু, মৃত্যু ভয় সবারই আছে। পৃথিবীতে কী এমন কাউকে দেখেছিস যে বাঁচতে চায় না? তবুও আমি ভেবেছি এবার যদি মৃত্যু আমাকে ভয় দেখাতে আসে তাকে বলব, শোনো মৃত্যু তুমি তো সবার জীবনে একবারই আসো, তাহলে কেন আসো আমার কাছে বারবার? তবে তোমার কাছে একটা জিনিশ আমি চাইবো, আমাকে স্বাভাবিকভাবে তুমি নেবে সে নিশ্চয়তা আমাকে দিয়ে যাও। অস্বাভাবিক মৃত্যু কারো কাম্য হতে পারে না। যেভাবে স্বাভাবিক নিয়মে পৃথিবীতে এসেছি সেভাবে স্বাভাবিক নিয়মে পৃথিবী থেকে চলে যেতে চাই।

ধ্যৎ মধু, দেখতো এত মৃত্যু কথা বলে তোর মনটাই হয়তো খারাপ করে দিলাম। এই যে বললাম চিঠিই একমাত্র মাধ্যম যার মাধ্যমে তোর ভেতরের ভাবনাটুকু প্রিয় বন্ধু প্রিয় মানুষের কাছে প্রকাশ করতে পারিস। আমিও তাই করলাম। ভালো থাকিস বন্ধু। চেষ্টা করিস সব সময় আনন্দে থাকতে। নিরাপদ রাখিস নিজেকে। চিঠি লিখিস বন্ধু। তোর চিঠি আমার ব্যস্ত জীবনে একটা শীতল হাওয়া বইয়ে দেয়।

ইতি, তোর বন্ধু

ম্যাল্টন, কানাডা

- Advertisement -
পূর্ববর্তী খবর
পরবর্তী খবর

Related Articles

Latest Articles