9.8 C
Toronto
সোমবার, অক্টোবর ১৮, ২০২১

আমার দেখা একজন সেরা ব্যক্তিত্ব

মনজুর হাসান

জীবনের ২৫ বছর লন্ডনে, ২৫ বছর ঢাকায় আর এখন টাঙ্গাইলে তিনি। বলছিলাম বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ ও স্বপ্ন পুরুষ ব্যারিস্টার মনজুর হাসান ওবিই-এর কথা। দেশ-বিদেশে আমার দেখা একজন সেরা ব্যক্তিত্ব। ২৮ জুন তাঁর জন্মদিন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক। তাঁর ঢাকার মহাখালিস্থ বাসা থেকেই টিআইবি’র যাত্রা শুরু হয়েছিল। তাঁর অসাধারণ নেতৃত্ব আর মেধার গুণে অল্প কয়েকবছরের মধ্যে টিআইবি শুধু বাংলাদেশে নয় সারাবিশ্বে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

মনজুর হাসান লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের গ্রাজুয়েট। বর্তমানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস এন্ড জাস্টিসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। ২০০৫ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনিস্টিটিউট অব গর্ভনেন্স এন্ড ডেভেলপমেন্টের তিনি প্রতিষ্ঠাতা।

টিআইবি ছেড়ে যাবার আগের বছর ২০০২ সালে তিনি এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য মেকিং ওয়েবস নামক একটি প্রকল্পে বৃটিশ দাতা সংস্থা ডিএফআইডিসহ আরও তিনটি দাতা সংস্থার কাছ থেকে বিশাল অংকের অনুদান লাভ করেছিলেন। এখনও সেই দাতারাই টিআইবির প্রকল্পের সম্প্রসারণ করে যাচ্ছে মূলত একই ধরণের কর্মকাণ্ডের জন্য। দুর্নীতি দমন ব্যুারোকে দুর্নীতি দমন কমিশনে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে মনজুর হাসান অসাধারণ ভুমিকা পালন করেছেন। এছাড়া টিআইবি’র উদ্যোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সচেতন নাগরিক কমিটি গঠন, তরুনদের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা, টিআইবি’র অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার প্রচলন, জাতীয় সংসদকে অধিকতর কার্যকর করতে গবেষণা কার্যক্রম চালুসহ বহুবিধ কাজের উদ্যোক্তা তিনি।

২০০৩ সালে টিআইবি ছেড়ে তিনি যোগ দেন জার্মানীর বার্লিনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রধান অফিসে এশিয়া অঞ্চলের প্রধান হিসেবে । সে বছরেই তিনি তার কাজের স্বীকৃতিসরূপ রাণী এলিজাবেথের কাছ থেকে অফিসার অব ব্রিটিশ এম্পায়ার (ওবিই) পুরষ্কারে ভুষিত হন। ছয় মাস পর দেশে এসে তিনি ব্র্যাক এর উপ-নির্বাহী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ব্র্যাক ইনিস্টিটিউট অব গর্ভনেন্স স্টাডিজ (আইজিএস) এর পরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ছিলেন অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের চেয়ারপারসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্বে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মনজুর হাসান বেশ সমাদৃত। জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ইউএনসিএসি এর তিনি ছিলেন চেয়ারপারসন। বাংলাদেশে সুশাসন নিয়ে মনজুর হাসানের রয়েছে একাধিক প্রকাশনা। ২০০৫ সালে ইউএনডিপি থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর লেখা, বিয়ন্ড হরতালস্ টুওয়ার্ডস ডেমোক্রেটিক ডায়লগ ইন বাংলাদেশ। ইনিস্টিটিউট অব পার্লামেন্টারি স্টাডিজ ২০০০ সালে প্রকাশ করেছে তাঁর গ্রন্থ দ্য বাংলাদেশ পার্লামেন্ট এন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশনস। ব্র্যাক আইজিএস থেকে প্রকাশিত দ্য স্টেইট অব গর্ভনেন্স ইন বাংলাদেশ রিপোর্টস এর তিনি মুল উদ্যোক্তা।

টিআইবি’র প্রতিষ্ঠালগন্ন থেকে মনজুর ভাই এর সাথে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। এমন সৎ, ন্যায়বান, পরোপকারী, দেশপ্রেমিক আমি খুব কম দেখেছি। একজন মানুষের যতগুলো ভাল গুণ থাকা দরকার তাঁর সবই মনজুর হাসানের আছে। ছোট, বড়, ধনী, গরীব, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশষে, সবাই তাঁর কাছে সমান। সবচেয়ে বড় কথা তিনি মানুষকে সম্মান দিতে জানেন। যে বয়সে তিনি ব্রিটেনের বিলাসী জীবন ছেড়ে শুধু দেশের জন্য পরিবার নিয়ে ফিরে গেলেন, সেই বয়সে আমি দেশ ছেড়ে কানাড়ায় চলে আসি নিজের এবং সন্তানদের কথা ভেবে। আমরা যারা তাঁর সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি সবাই সৌভাগ্যবান।

মনজুন হাসান অত্যন্ত প্রচারবিমুখ। তিনি টিআইবিকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করেছেন। করেছেন আরও অনেক প্রতিষ্ঠানকে। নিজেকে সবসময় আড়ালে রাখারই চেষ্টা করেছেন। টিআইবি ট্রাস্টিগণ অনেক চেষ্ঠা করে মনজুর হাসানকে ফিরিয়ে আনতে পারেননি।

মনজুর হাসান আমার দেখা একজন সেরা ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশে মনজুর হাসানের মতো আরও দেশপ্রেমিক চাই। তাহলে বাংলাদেশের চেহারাটা পাল্টাতে বেশিদিন লাগবে না। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ ব্যারিস্টার মনজুর হাসানকে, জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। মনজুর ভাই আপনি শতায়ু হন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আপনার জন্য শুভকামনা।

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement - Visit the MDN site

Related Articles

- Advertisement - Visit the MDN site

Latest Articles