22.1 C
Toronto
সোমবার, মে ২০, ২০২৪

ফুলবাড়ীয়ায় ক্যানসার প্রতিরোধক করোসল গাছের পাতা সংগ্রহে ভিড়

ফুলবাড়ীয়ায় ক্যানসার প্রতিরোধক করোসল গাছের পাতা সংগ্রহে ভিড়

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ক্যানসার প্রতিরোধক হিসাবে পরিচিত করোসল ফলের গাছের পাতা সংগ্রহে ভিড় করছেন স্বজনরা। রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের হাতিলেইট গ্রামে কৃষাণ সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ নামক খামারে ৮টি করোসল গাছ রয়েছে। সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় করোসল গাছ নিয়ে খবর প্রচারের পর ক্যানসার আক্রান্ত অসহায় রোগীর স্বজনরা এ গাছের ফল ও পাতা সংগ্রহে হুলুস্থুল শুরু করেন।

- Advertisement -

বিষয়টি স্বীকার করেছেন খামারের পরিচালক একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবু বকর সিদ্দিক (প্রিন্স)। তিনি বলেন, বুধবার (৫ জুলাই) দেশের বিভিন্নস্থানের ৫৬ জনকে ৩০টি করে পাতা কুরিয়ারে করে পাঠানো হয়েছে।

২০১৭ সালে ঐ খামারী বীজ থেকে চারা তৈরি করে খামারে রোপন করেন। সেখান থেকে ৮টি বিদেশি ফল করোসল গাছ হয়। ২০২৩ সালে ফুল থেকে ফলও গাছে। প্রতিটি করোসল ফলের ওজন হয় ৪শ থেকে এক কেজি।

করোসল অ্যানোনা মিউরিকাটা গোত্রের একটি ফল যা অনেক ক্ষেত্রেই ক্যামোথেরাপির কাজ করে থাকে। ক্যানসার প্রতিষেধক হিসেবে এ ফলের পক্ষে বিশেষজ্ঞদের বহুবিদ মতামত পাওয়া যায়। অনেক দেশেই এ ফলটি ক্যানসার প্রতিরোধক ফল হিসেবে পরিচিত।

করোসল ফলটি গ্রাভিওলা, সাওয়ারসপ, গুয়ানাবা, গুয়ানাভানা, ব্রাজিলিয়ান পাও পাও ইত্যাদি নামে পরিচিত। এর মধ্যে থাকা আনোনাসিয়াস এসেটোজেনিন নামক এক ধরনের যৌগ রয়েছে যা ক্যানসার কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এটি ক্যানসার কোষে শক্তি সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং রক্তপ্রবাহ আটকে দেয়।

সরেজমিন কৃষি খামার পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ৮টি করোসল গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে হলুদ রঙের ফুল ফুটেছে। ফুল ফোঁটার পর ‘লাভ’ আকৃতির তিনটি খোসা ফেটে গিয়ে ভেতর থেকে করোসল ফল বের হচ্ছে। ছোট ছোট করোসল ফলের পাশাপাশি বড় ফলও গাছে দেখা গেছে। কাঁঠালের মত কাঁটা যুক্ত সবুজ রঙের করোসল ফল। প্রতিটি ফলের ওজন হয় ৪শ গ্রাম থেকে এক কেজি।

বাকতা গ্রাম থেকে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক জানান, তার মা ক্যানসার আক্রান্ত হয়েছে। বিষয়টি তারা জানলেও তার মা এখনো জানেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও একটি বেসরকারি টেলিভিশনের খবরে জানতে পেরেছেন ক্যামো থেরাপির চেয়ে শক্তিশালী করোসল গাছের পাতা। মায়ের রোগ সারানোর জন্য করোসল গাছের পাতা সংগ্রহের জন্য এসেছেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তার মা ক্যানসার সেও রোগের খবর তাকে জানানো হয়নি এখনো। ডাক্তার থেরাপির পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা থেরাপির দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোসল গাছের কথা শুনে পাতা সংগ্রহের জন্য বাগানে এসেছেন। যদি মা সুস্থ হয়।

কৃষাণ সমন্বিত কৃষি খামারের পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক জানান, করোসল একটি বিদেশি ফল। আমাদের দেশে এ ফলের গাছ তেমন একটা নেই। গাছটি ক্যানসার প্রতিরোধক হিসাবে বেশ পরিচিত। গাছের পাতা পানিতে চুবিয়ে খাওয়ার পর ক্যানসার আক্রান্ত রোগী যদি ভালো হয় তবে পাতা দিতে আমার কোনো কৃপণতা নেই। আমি বিনামূল্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে কুরিয়ারে করে পাঠাচ্ছি অসহায় স্বজনদের অনুরোধে। তবে তিনি বলেন, পাতাগুলো পানিতে চুবিয়ে খাওয়ার আগে স্বজনরা যেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেন।

সূত্র : ইত্তেফাক

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles