গোয়ার রাজনীতিতে মমতার অবস্থান ঐতিহাসিক

- Advertisement -

ইতিহাস বারবার পিছন ফিরে তাকায়, বাংলায় সৎ-স্বচ্ছ রাজনৈতিক মাইল স্তবক মমতাকে সবাই ভাবতো। সত্যি কথা বলতে গেলে গ্রামবাংলার প্রত্যক্ষ গ্রামে নোংরা রাজনীতি শুরু হয়েছে, লোকের জমি জোর করে কেড়ে নেওয়া। অন্য লোকের জমির রেকর্ড অন্য নামে করে দেওয়া, কোন কিছু ব্যবসা করতে গেলে নেতাদের জুলুমের শিকার হওয়া। বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এই নোংরা রাজনীতি চায়না। তবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একাধিকবার মেইল করে ও সমাধান পাইনি সাংবাদিক পরিবারের অনেকেই। মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করলে সাথে সাথে সাথে বিরোধীদল দলের লোক বানিয়ে দেয়া হয় সমালোচনা নিতেই পারে না। জাতীয় রাজনীতি করতে গেলে অনেকটা সংযত এবং আরো স্বচ্ছ হতে হবে বাংলা সারা ভারতবর্ষের কয়েকটি মডেল রাজ্য হিসেবে ঘোষিত হবে। গ্রাম বাংলার সাংবাদিকদের অবস্থার খোঁজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নেন। বাম জামানা থেকে বাংলার অনেকটা উন্নতি করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি মানুষ পশ্চিমবাংলায় স্বচ্ছ রাজনীতি করার জন্য তৎপরতা কিন্তু তার দলের নেতাকর্মীরা একদম লুটেপুটে খাওয়ার জন্য ব্যস্ত সে খবর রাখার মতন শাসকদলের কেউ নেই। গ্রাম বাংলার রাজনীতিতে দুর্নীতি করতে সিদ্ধহস্ত স্থানীয় নেতারা। সে খবর মুখ্যমন্ত্রী কান পর্যন্ত পৌঁছায় না, নদীবক্ষে ভুল করে চিঠি করে তা লোকাল প্রশাসন থেকে খবরটা কে ফেক বলে চালিয়ে দেয়া হয়। গ্রামবাংলায় সাংবাদিক পরিবারের বিদ্যুতের বিলের মাশুল চাপিয়ে দেওয়া আছে মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি করে সদুত্তর পায়নি।

- Advertisement -

গ্রাম বাংলার সাংবাদিক পরিবারের বিদ্যুৎ বিলের মওকুফের দাবি করেছিল অথচ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এমনই একটা ঐতিহাসিক সদিচ্ছা আজও প্রকাশ করল না গ্রাম বাংলার সাংবাদিকদের তো বিদ্যুৎ ফ্রি দিতে পারতেন। তবে বাংলার সাধারন গরিব মানুষ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে তৃতীয়বারের জন্য আবার মুখ্যমন্ত্রীকে সরকারে এনেছিলেন। লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের অনেকের টাকা আজও পায়নি কেন পায়নি তার সব উত্তর নেই। এমনও ঘটনা আছে যার নামে বাংলা আবাস যোজনা ঘরের টাকা এসেছে সেই টাকা অন্যত্রে একাউন্টে ঠিক আছে প্রশাসনের তরফ থেকে, সেই ভুলের সংশোধন প্রশাসন করছে না । বাসন্তীর এমনই ঘটনা ঘটিয়েছে,সেই বিষয় ক্যানিং মহকুমার শাসক আজাহার জিয়াকে বলেও আজও সমাধান মেলেনি দীর্ঘ মাস হয়ে গেল। কৌশলে এমনিভবে বদনাম করে চলেছে সরকারের নিচুতলার কর্মীরা। তবুও জাতীয় রাজনীতিতে এখনো পর্যন্ত শাসক দলের বিরোধী একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বঙ্গোপসাগর । উপকূলের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরব সাগরের পাড়ের ছোট্ট রাজ্য গোয়া! বাংলার মাছের ঝোলের সঙ্গে সাযুজ্য এবার গোয়ার ফিশ কারি ‘শিত কোড়ি’র! ক্রমশই কি জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে গোয়া? এই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য যখন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের ঠিক পরেই গোয়াতে আগমন ঘটছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী । পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সফরের দ্বিতীয় দিনে যেমন জল্পনা ছিল বাস্তবে ঠিক সেটাই হল। বাংলার সঙ্গে মিলেমিশে গেল গোয়া। সৌজন্যে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। মমতার সফরের মাঝেই আগামিকাল গোয়া সফরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। দেশের দুই হেভিওয়েট রাজনীতিবিদের গোয়া সফরের উত্তাপের আঁচ লেগেছে জাতীয় রাজনীতিতে।

নামমাত্র ভোটে লড়াই জন্যই গোয়াতে তৃণমূল নামেনি, বরং সরকার গঠনে আগ্রহী তাঁরা আগ্রহী দলের নেতাদের পক্ষ থেকে এই বার্তাটাই স্পষ্ট ছিল। তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রীর বক্তব্যে সেই বক্তব্যই আরও জোড়ালো হল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপির একের একের পর এক সর্বভারতীয় নেতার আগমনে বহিরাগত তত্ত্ব খাঁড়া করেছিল তৃণমূল। ভোটবাক্সে বহিরাগত ফ্যাক্টর কাজ করেছে ভোটের ফলেই সেটা স্পষ্ট। গোয়াতে তাঁর ওপর বহিরাগত তকমা লাগার আগেই কৌশলে “আমিও গোয়ার সন্তান” বলে সেই বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন মমতা, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।তবুও বলতে চাই টানা তৃতীয় বার বঙ্গবিজয়ের পর তৃণমূল উঠেপড়ে লেগেছে সর্বভারতীয় হয়ে উঠতে। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভাবে তৃণমূলকেই ‘প্রকৃত কংগ্রেস’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিতে। দল গঠনের পর ২৩ বছর কেটে গিয়েছে। মমতা পশ্চিমবঙ্গে নিজেই ‘আসল কংগ্রেস’ হয়ে উঠেছেন। এখন তাঁর লক্ষ্য সারা দেশে ‘আসল কংগ্রেস’ হয়ে ওঠা। সেই উদ্দেশে বিভিন্ন রাজ্যে দলের জমি তৈরি করতে গত চার মাস ধরেই তৃণমূলের অনেক নেতা বাংলার বাাইরে পাড়ি দিচ্ছেন। ত্রিপুরা, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, গোয়া-সহ বিভিন্ন রাজ্যে গিয়েছেন তৃণমূলের তরুণ তুর্কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। মমতা অতীতে গিয়েছেন রাজনৈতিক প্রচারে, কিন্তু এই প্রথম মমতা একটি রাজ্যে যাচ্ছেন সরকার গঠনের প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে।

- Advertisement -

যে সফরের আগে মমতা টুইট করে সকলের সমর্থন চেয়েছেন। আর মমতার এই যাওয়াকে যেমন ভালো চোখে দেখছে না বিজেপি, তেমনই খুশি নয় সনিয়া-রাহুলের কংগ্রেস।তাই জাতীয়স্তরে রাজনৈতিক পরিসরে জোড়াফুলকে প্রতিষ্ঠিত করতে বৃহস্পতিবার বিকেলে পানাজিতে পা রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডাবলিন বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাল জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রীয় আবর্তে এখন অন্যতম আলোচিত ‘গোয়াঞ্চি’। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গোয়া বিধানসভার নির্বাচন। অনুন্নয়ন আর ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন গোয়া গড়ার শপথবাক্যকে স্লোগান আকারে উপস্থাপন করেছে জোড়াফুল শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আসবে ‘গোয়াঞ্চি নভি সকাল’ (গোয়ায় নতুন প্রভাত) ‘গোয়াঞ্চি নভি সকাল’ (গোয়ায় নতুন প্রভাত) স্লোগানকে সামনে রেখে কোঙ্কন উপকূলে পা দিয়েছে জোড়াফুল। মাত্র একমাসের মধ্যেই গোয়া রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তৃণমূল, পরিবর্তনের চোরাস্রোত বইতে শুরু করেছে আরব সাগর পাড়ের জনপদে। গোয়ার বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে করোনা পর্বে চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অক্সিজেন কেলেঙ্কারির মতো দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ এনেছিলেন প্রাক্তন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক। সেই সমস্ত অভিযোগকে হাতিয়ার করে ইতিমধ্যেই ১০ দফার ‘জনতা চার্জশিট’ জমা দিয়েছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তের পদত্যাগ দাবি করে রাজ্যপাল শ্রীধরণ পিল্লাইয়ের কাছে স্মারকলিপি জমাও দিয়েছে জোড়াফুল শিবির। মমতার আসার আগেই রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে।

- Advertisement -

পরিবর্তনের সেই লিপ্সা আর আকাঙ্ক্ষা সঙ্গে নিয়েই বিমানবন্দরে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে এসেছিলেন গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি লুইজিনহো ফেলেইরো, কংগ্রেস থেকে আসা প্রিয়া রাঠোর, উল্লাস ভাস্করের মতো নেতা-নেত্রী এবং অগুনতি তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। মমতার গোয়া সফরের খবর সামনে আসার পর থেকেই বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সদানন্দ তানাবাড়ে বারবার আক্রমণের নিশানায় এনেছেন তৃণমূলকে। বাংলায় বসে তাতে সঙ্গত দিতে শুরু করেছেন সুকান্ত মজুমদার-দিলীপ ঘোষরা। পানাজি সহ গোয়ার বিভিন্ন প্রান্তে মমতার ছবি সম্বলিত ফ্লেক্স, ব্যানার এবং হোর্ডিং ছেঁড়ার কাজ শুরু করেছিল গেরুয়া বাহিনী।

এদিন আবার বিমানবন্দরের বাইরে গেরুয়া বাহিনী গো ব্যাক স্লোগান আর কালো পতাকা নেড়ে মমতাকে বিব্রত করার চেষ্টাও চালায়। গুরুত্ব দেননি তৃণমূল সুপ্রিমো। উচ্ছ্বাস কমায়নি রাস্তার দু’ধারে জড়ো হওয়া গোয়ানরা। তৃণমূল সুপ্রিমোর সফরকে কেন্দ্র করে ‘পরিবর্তনকামী’ মানুষের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনা শুরু হয়েছে, তা বোঝা যায় এদিন দলের গোয়া রাজ্য কমিটির টুইট বার্তায়—‘অগ্নিকন্যার হাত ধরেই গোয়ায় হবে নতুন সরকার, স্থায়ী সরকার, উন্নয়নের সরকার’। এদিকে বিজেপি রাজনৈতিক ভাবে তৃণমূলকে মোকাবিলা করতে মরিয়া, বিশেষ করে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মোদী-শাহরা যে ধাক্কা বাংলায় খেয়েছেন তারপর আর কোনও রাজ্যেই মমতাকে এতটুকু স্পেস ছাড়তে রাজি নয় গেরুয়া শিবির। আমরা লক্ষ্য করলাম, ২৩ অক্টোবর সকালে মমতা টুইট করে বিজেপিকে হারাতে গোয়া যাওয়ার বার্তা দেওয়ার পরেই গোয়ার উন্নয়ন নিয়ে মুখর হলেন নরেন্দ্র মোদী। ওই শনিবার দুপুর বারোটা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী টুইট করে বললেন, দেশের উন্নয়নের নয়া মডেল হয়ে উঠেছে গোয়া। এই টুইট-তৎপরতা বুঝিয়ে দেয় গোয়ার সৈকতেও তৃণমূলকে হালকা ভাবে নিচ্ছে না বিজেপি। তৃণমূলও এবার রাজনৈতিক ভাবেই সক্রিয়তা দেখাচ্ছে।

প্রাক্তন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গোয়ার বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছে তৃণমূল।গোয়ায় মাটি তৈরির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে আগে থেকেই। সে কাজ করতে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর (পিকে) প্রথমে পা রাখেন ওই রাজ্যে। তারপর ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, মনোজ তিওয়ারি, সুধাংশুশেখর রায়, সৌগত রায়, বাবুল সুপ্রিয় সাংগঠনিক কাজ শুরু করে দেন। ততদিনে কংগ্রেসের ২ বারের মুখ্যমন্ত্রী ও সাত বারের বিধায়ক লুইজিনহো ফালেরিও তৃণমূলের পতাকা আঁকড়ে ধরেছেন। বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ও যোগ দিয়েছেন। কদমতল করছেন নাসিফা আলি ও লাকি আলি। শোনা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সৈকতশহর পানাজিতে হাজির হলে আরও কয়েকজন খ্যাত ব্যক্তিত্ব তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিতে পারেন। তবে পানাজি থেকে আট কিলোমিটার দূরের ডোনা পাওলায় থাকছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আরব সাগর তটের ডোনা পাওলাই মমতার আগামী দু’দিনের অস্থায়ী ঘাঁটি। আজ, শুক্রবার সকাল ১০টায় এখান থেকে মমতা শুরু করবেন তাঁর কর্মসূচি। মিলিত হবেন তৃণমূলের গোয়ার নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে। এরপর বেটিমে ধীবর সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করবেন। বেলা একটায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন মমতা। এদিনই পণ্ডার তিনটি প্রসিদ্ধ দেবালয় পরিদর্শন করবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সন্ধ্যায় ডোনা পাওলায় মিলিত হবেন গোয়ান সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট লোকজনের সঙ্গেই। এখানেই কি তৃণমূলে যোগ দেবেন বিখ্যাত র‌্যাপার রেমো ফার্নান্ডেজ, গায়ক লাকি আলি এবং অভিনেত্রী নাফিসা আলি সহ আরও কয়েকজন তারকা? জল্পনা এখন গোয়াজুড়ে।

গোয়ার রাস্তায় তৃণমূলনেত্রীর ছবিসহ ব্যানার, পোস্টার, ফ্লেক্স ছেয়ে গিয়েছে। সেই ছবি পোস্ট করে মহারাষ্ট্রের তৃণমূল নেতা সাকেত গোখলে টুইট করেছেন, ‘হ্যালো গোয়া, সর্বত্র পরিবর্তনের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।’ তবে সেই পোস্টারে কালি লাগানো, পোস্টার ছেঁড়ার ছবিও টুইট করে তৃণমূল অভিযোগ করেছে, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই একাজ করছে৷ পশ্চিমের আরব সাগর তীরে ওই রাজ্যে কারা আদতে এই কাজ করেছে, তা নিয়ে আমাদের অনুমান নির্ভর করেই থাকতে হবে। সেই অনুমান থেকেই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি গোয়ার বিজেপি সরকার তৃণমূলকে ভয় পাচ্ছে? নইলে তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, চার দিন আগে কর্মসূচির অনুমতি দিলেও শেষ মুহূর্তে গোয়া প্রশাসনের তরফে সেই অনুমতি বাতিল করা হল কেন? গোয়ায় ‘পিপলস চার্জশিট’ নামে বিশেষ ভিডিয়ো তৈরি করেছে তৃণমূল।অন্যদিকে নিজের গোয়া সফরেই আগামী বছর হতে চলা বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারের দামামা বাজিয়ে দিতে চান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এর পাশাপাশি কংগ্রেস কর্মী সমর্থক এবং দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে রাহুলের। ২০১৭ সালে ৪০ আসনের গোয়া বিধানসভায় ১৭ টি আসন জিতে সর্ববৃহৎ দলের স্বীকৃতি পেলেও বিজেপির কৌশলের কাছে হার মানতে হয় রাহুল সনিয়াদের। কিন্তু স্থানীয় দল গুলির সমর্থন জোগাড় করে ১৩ টি আসন নিয়েও সরকার গঠন করে বিজেপি। তাই গোয়াতে আগের বারে জেতা লড়াই হেরে গিয়ে এবার সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপ দিতে চাইছে শতাব্দী প্রাচীন দলটি।

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আরও একটি ব্যখ্যা রয়েছে। তাদের মতে, সর্বভারতীয় স্তরে আসামের সুস্মিতা দেব, গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনো ফ্যালেরিওর মত কংগ্রেস নেতানেত্রীরা বিজেপি বিরোধিতায় কংগ্রেসে আস্থা রাখতে না পেরে মমতার হাত ধরেছেন। গোয়াকে কেন্দ্র করে এককভাবে তৃণমূলের এই আস্ফালনকে ভাল চোখে দেখছে না কংগ্রেস। এরমধ্যেই মমতা আজ নিজের বক্তব্যে এত বছর ধরে কিছু করতে না পারার জন্য কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেছেন। এতে বিজেপি বিরোধিতায় বিজেপি ঐক্য ব্যাহত হচ্ছে বলেই মত কংগ্রেসর। গোয়া সফরে এসে মমতা কংগ্রেসকে ভাঙাতে পারেন এই দুশ্চিন্তাও রয়েছে। তাই ভারসাম্য বজার রাখতে দেরি না করেই মাঠে নেমে পড়লেন রাহুল গান্ধী স্বয়ং, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles