টরন্টো জীবনের শুরুতে

- Advertisement -

ফাইল ছবি

আরব্য একটা প্রবাদ আছে, “তোমার জীবনে ঘটে যাওয়া খারাপ ঘটনাগুলো বালুর উপর লিখে রাখো আর ভাল ঘটনাগুলো লিখে রাখো মার্বেল পাথরের উপর।”

১৯৯৭ সালে টরন্টোতে আসার পর থেকে নিজেকে যথা সম্ভব গুটিয়ে রেখেই চলার চেষ্টা করেছি। তারপরও কিছু কিছু কাজের উদ্যোগ না নিয়ে পারি নি। তেমনি একটা উদ্যোগ ছিল প্রবাসীদের ভোটাধিকার আদায়ে সোচ্চার ভুমিকা পালন করা। ভেবেছিলাম কানাডা থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বে বসবাসরত বাংলাদেশের প্রবাসীদের মধ্যে একটা আন্দোলন ছড়িয়ে দিব। তখন ২০০৭ সাল, ফখরুদ্দিনের তত্তাবধায়ক সরকার ক্ষমতায়। প্রবাসীদের পাঠানো কষ্টার্জিত রেমিট্যান্সে বাংলাদেশের রিজার্ভ ফুলে উঠে অথচ সেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার থাকবে না, তা কি হয়? কয়েকদিন পত্র পত্রিকা মিডিয়া ঘেটে তথ্য বের করলাম পৃথিবীর কোন কোন দেশের প্রবাসীদের ভোটাধিকার আছে! কয়েকদিনের মধ্যেই একটা সেমিনার উপযোগী পেপার রেডি করে ফেললাম। টরন্টোর বাঙালী পাড়ার তৎকালীন এমপি ও পরবর্তীকালের মন্ত্রী মারিয়া মিন্নাকে প্রধান অতিথি করে আমার বাসার কাছের পাবলিক লাইব্রেরির হল রুম ভাড়া করে সেমিনার আয়োজন করে ফেললাম। তার কিছুদিন আগে স ম সালাম ভাইকে সভাপতি ও আমি নিজে সাধারণ সম্পাদক হয়ে প্রবাসি নাগরিক কমিটি গঠন করেছি। সেই নাগরিক কমিটির ব্যানারেই আয়োজন করলাম “প্রবাসীদের ভোটাধিকার” নিয়ে সুসংগঠিত সেমিনার। মহান স্বাধীনতা দিবস ও ভোটাধিকার নিয়ে এই আলোচনায় আমি কয়েক পৃষ্টার প্রবন্ধ পাঠ করে বুঝাতে সক্ষম হই কেন প্রবাসীদের ভোটাধিকার দরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা স ম সালাম ভাই। উপস্হিত ছিলেন লেখক, সাহিত্যিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোল্লা বাহাউদ্দিন চাচা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল, ব্যবসায়ী রাশিদ রহমান , সাবেক ছাত্রনেতা ফিরোজুর রহমান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সেখ মোহাম্মদ ইউসুফ ও আশরাফুল হুদা। কাগজ কেটে হাতে লেখা ব্যানারটি তৈরী করে আমার মেয়ে কান্তা।

- Advertisement -

যা হোক, তারপর থেকে কথা উঠলেও ২০০৭ সালের সরকার সেটা করতে পারে নি। বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো সেটি কার্যকর হয় নি। আশা করি দ্রুতই বিশ্বের সকল বাংলাদেশী প্রবাসীদেরকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles