21.3 C
Toronto
রবিবার, জুন ১৬, ২০২৪

এশিয়া কাপ থেকে বিদায় টাইগারদের

এশিয়া কাপ থেকে বিদায় টাইগারদের
ছবি সংগৃহিত

খেলা শেষ হতে তখনও ১৮ বল বাকি। জয়ের জন্য প্রয়োজন ৩৪ রান। টি-টোয়েন্টির বিচারে লক্ষ্যটা অতি সামান্যই। সঙ্গে ক্রিজে যখ লংকান অধিনায়ক দাসুন শানাকা, তখন শ্রীলংকার প্রত্যাশাতে জয় থাকাটাই স্বাভাবিক। শেখ মাহেদীর সেই ওভারেই ৮ রান নিলেন শানাকা। আগের বলে ফুলটসে চার দিয়েছিলেন মাহেদী। তবে পরের বলেই প্রতিশোধ নেওয়া হলো তাঁর। স্লটে পেয়ে তুলে মেরেছিলেন দাসুন শানাকা। লং অফে মোসাদ্দেক হোসেনের হাতে গিয়ে ধরা পড়ে বল। উল্লাসে মেতে উঠে টাইগাররা। তবে সে উল্লাস শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেননি তারা। ২ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লংকানরা।

লড়াইটা ছিল দুই দলের বাঁচা-মরার। হারলে বিদায়, জিতলেই এশিয়া কাপের সেরা চারে। এমন পরিসংখ্যানের সামনে যখন, খেলাটা তখন অঘোষিত ফাইনাল! প্রতিদ্বন্দ্বিতাটাও হয়েছে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের মতোই। শেষ ওভার পর্যন্ত খেলাটা গড়িয়েছিল। কিন্তু শেখ মাহেদীর তৃতীয় বলে দুই রান নিলে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩ বলে মাত্র ১ রানে। তখনই আম্পায়ার ইশারা নো বলের। তাতেই উচ্ছাসে ফেটে পড়ে শ্রীলংকা। অসহায় আত্মসমর্পণ করে মাঠ ছাড়েন সাকিবরা।

- Advertisement -

বাংলাদেশি ব্যাটাররা দারুণ শুরু করে দিয়েছিলেন। মিরাজ ও আফিফের ব্যাটে বাংলাদেশ পেয়েছিল ১৮৩ রানের বড় সংগ্রহ। কিন্তু ম্যাচে বোলারদের নো বলের মহড়ায় জয়টা আর ধরা দিল না।

বোলিং ইনিংসের শুরু থেকেই শ্রীলংকার ব্যাটাররা চড়াও হয়েছিলেন টাইগার বোলারদের ওপর। ৫ ওভারেই তারা সংগ্রহ করে নেয় ৪৪ রান। ওভার প্রতি তখন ৯ রানের বেশি করে আসছিল। সেই রানের গতির লাগাম টেনে ধরেন টি-টোয়েন্টিতে অভিষিক্ত পেসার এবাদত হোসেন। জোড়া উইকেটের সঙ্গে মাত্র ৪ রান খরচ করেন। শেষ বেলায় এই এবাদতই হয়েছিলেন খরুচে।

এদিন বোলাররা যেন মেতে উঠেছিলেন নো বলের মহড়ায়। ৮টি ওয়াইড, ৪টি নো বল—অতিরিক্ত কলামের এ দুই খাতে বাংলাদেশের খরচ। যে মহড়ায় সামিল ছিলেন এবাদতও।

অথচ নিজের অভিষেকটা অন্যভাবে রাঙাতে পারতেন তিনি। অভিষেকে প্রথম ওভার করতে এসেই বাংলাদেশকে ডাবল ব্রেক-থ্রু দিয়েছিলেন তিনি। এদিন তার শর্ট বলে কাবু হয়েছিলেন লংকান ব্যাটাররা। তিনটি উইকেটই শিকার করেছিলেন শর্ট বলে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি।

এবাদতের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে টপ এজড হয়েছেন নিসাঙ্কা, শর্ট মিডউইকেটে দিয়েছেন সহজ ক্যাচ। শেষ বলে ক্যাচ তুলেছেন চারিত আসালাঙ্কাও। অভিষিক্ত ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন তিনি। পরের ওভারেই তৃতীয় উইকেট শিকার করেন। স্লো বাউন্সারে তুলে মারতে গিয়ে টপ এজড হয়েছিলেন গুনাতিলাকা, বল উঠেছিল বেশ ওপরে। ফাইন লেগ থেকে অনেকটা ছুটে এসে, ক্যাচের নিচে নিজেকে প্রস্তুত করে, মুশফিককে থামিয়ে ক্যাচটি নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ।

চতুর্থ আঘাতটি অবশ্য এনেছেন তাসকিন আহমেদ। তিনিও এবাদতের মতোই দিলেন শর্ট ডেলিভারি। স্ট্রেইট ড্রাইভ করেছিলেন ভানুকা রাজাপাকশে। কিন্তু থার্ড ম্যানে সীমানর কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা বদলী খেলোয়াড় নাঈম শেখ তা দ্রুত তালুবন্দী করলে ড্রেসিং রুমের পথ ধরতে হয় তাকে।

জীবন পেয়েছেন একাধিকবার। তাতে তুলে নিয়েছেন অর্ধশতক, শ্রীলংকারও রানের খাতা সচল থাকে। তবে ভয়ংকর হয়ে ওঠা ব্যাটার কুশল ম্যান্ডিসকে ফেরালেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান।

জুটি ভাঙার প্রয়োজন ছিল, সাকিব আনলেন তাঁর বড় অস্ত্র মোস্তাফিজকে। মোস্তাফিজ বের করে আনলেন তাঁর ক্ল্যাসিক স্লোয়ার। শর্ট লেংথের বলটিকে থার্ডম্যানে পাঠাতে চেয়েছিলেন মেন্ডিস, সফলও হন। তবে ছুটে এসে আরেকটি ভালো ক্যাচ নিয়েছেন তাসকিন। চার বার বেঁচে যাওয়া মেন্ডিস অবশেষে ফিরেছেন ৩৭ বলে ৬০ রান করে। ফিরে যাওয়ার আগে অধিনায়ক শানাকার সঙ্গে গড়েন ৫৪ রানের জুটি। অপরাজিত থাকা শানাকাকে আর হাসারাঙ্গার সঙ্গে জুটি বাঁধতে দেননি তাসকিন। পরের ওভারেই শেখ মাহেদীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই লেগি।

তবে শেষের লড়াইয়ে আর পেরে ওঠেনি বাংলাদেশ। শেখ মাহেদীর ওভারে ৪ বল হাতে রেখেই দুই উইকেটের জয় নিশ্চিত করে শ্রীলংকা। তার আগ পর্যন্ত দারুণ লড়াই করছিল বাংলাদেশ।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles