25.5 C
Toronto
সোমবার, আগস্ট ৮, ২০২২

দিনে ঘাট সুপারভাইজার, রাতে তিনিই ভয়ঙ্কর ডাকাত

- Advertisement -

দিনে ঘাট সুপারভাইজার, রাতে তিনিই ভয়ঙ্কর ডাকাত

দিনের আলোয় তিনি কাজ করেন বন্ধন-৫ নামে লঞ্চের পটুয়াখালীর বাউফলের নুরাইনপুর ঘাট সুপারভাইজার হিসেবে। আর রাত হলেই হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর ডাকাত। আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য তিনি। ডাকাত দলের প্রধান ইসমাইল গাজীর অন্যতম সহযোগী ছিলেন তিনি।

নাম হেমায়েত শিকদার ওরফে মিলন, বয়স- ৪৭ বছর। বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের নুরাইনপুর গ্রামের রত্তন আলী শিকদারের ছেলে তিনি। এলাকাবাসী তাকে হেমায়েত নামে চিনলেও ডাকাতচক্রের কাছে তিনি মিলন নামেই পরিচিত।

সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হেমায়েত শিকদার ওরফে ডাকাত মিলন এর আগে অপর একটি ডাকাতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সেই মামলায় বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। তবে এ মামলার বিষয়টি জানেন না এলাকাবাসী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাতের আঁধারের অপকর্ম ঢাকতেই মূলত লঞ্চ স্টাফ হিসেবে ঘাটে চাকরি করতেন হেমায়েত শিকদার। স্থানীয় কিছু মানুষের কাছে হেমায়েত ভালো ও মজার লোক হিসেবে পরিচিত। অনেকের কাছে আবার চরিত্রহীন, খারাপ প্রকৃতির মানুষ। লঞ্চ ঘাটে প্রায় সময় হেমায়েত যাত্রীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন। অপরিচিত দূরের মানুষদের কাছ থেকে লঞ্চে কেবিন দেয়ার মিথ্যা কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ বরিশালের বিভিন্ন স্থানের ২০টির বেশি ডাকাতির মিশনে অংশগ্রহণ করেছে হেমায়েত।

ডাকাত হেমায়েতের প্রতিবেশী ইমরান হোসেন বলেন, হেমায়েত মাঝে-মধ্যে সন্ধ্যার পরে দেখা যেত না। এদিক-সেদিক চলে যেত, কিন্তু তিনি যে ডাকাত দলের সদস্য- সেটা কখনো বুঝতে পারিনি। আমরা ভাবতাম, হয়তো জরুরি কাজে কোথাও গেছে।

হেমায়েত শিকদার ওরফে ডাকাত মিলন দীর্ঘদিন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সঙ্গে কাজ করলেও প্রকাশ্যে কেউ জানত না বিষয়টি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার, নতুন করে ডাকাতির ঘটনায় ধরা পড়েছে পুলিশের জালে। সম্প্রতি পটুয়াখালীর বাউফলে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

গত ০১ জুলাই রাতে বাউফলের নুরাইনপুর এলাকার রুহুল আমিন শিকদারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় মামলা নিয়ে চুলচেড়া অনুসন্ধান শুরু করেন সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) শাহেদ আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাউফল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল। এরপর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ০৪ জুলাই বরিশাল থেকে দুজন এবং বাউফল থেকে ডাকাত দলের প্রধান ইসমাইল গাজী ও ডাকাত হেমায়েত শিকদারকে আটক করে পুলিশ। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয় ইসমাইল গাজীর বাড়ি থেকে। পুলিশের এই সফল অভিযানে স্বস্তি ফিরে পেয়েছে বাউফলবাসী৷

এ ব্যাপারে বন্ধন-৫ লঞ্চের ম্যানেজার শাহজাহান মিয়া বলেন, হেমায়েত ২০১৬ সাল থেকে আমাদের ঘাট সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছে। তখন আমরা প্রথম সার্ভিসে আসি। এসে তৎকালীন স্থানীয় ইউপি মেম্বারকে জানাই আমাদের একজন লোক প্রয়োজন ঘাট পরিচালনা করার জন্য। তিনি তখন হেমায়েতকে আমাদের কাছে পাঠান। হেমায়েতের অভাব-অনটনের কথা শুনে আমরা তাকে কাজে রাখি। একজন ডাকাত যে দিনের আলোয় এভাবে চাকরি করতে পারে, এটা আমরা কল্পনায়ও আসেনি। যখন খবরের কাগজে দেখলাম, তখন তার আসল পরিচয় জানতে পারলাম।

সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল-দুমকি সার্কেল) শাহেদ আহমেদ চৌধুরী জানান, তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে হেমায়েত শিকদারসহ চার ডাকাতকে আটক করা হয়। এরা সবাই ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। ডাকাতদের ভেতরে দুজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ডাকাতির কথা স্বীকার করেছে। তারা অন্য কোন কোন রুটে ডাকাতি করত, সে বিষয়ে রিমান্ডে জিজ্ঞাবাদ করা হবে।

সূত্র : ঢাকাটাইমস

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles