12.8 C
Toronto
মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

এক মাস আগে বৈঠকে ছক পাঁচ সন্ত্রাসীর

- Advertisement -
রাজধানীর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এক মাস আগেই।

রাজধানীর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এক মাস আগেই। অন্তত পাঁচ সন্ত্রাসী শাহজাহানপুর এলাকায় বৈঠক করে ছক তৈরি করে। মূলত সে অনুযায়ীই ঘটে এই হত্যাকাণ্ড। হত্যা মিশন অনুযায়ীই টিপুকে আর এলোপাতাড়ি গুলিতে রিকশা আরোহী কলেজছাত্রী প্রীতি নিহত হন। এতদিন এ ঘটনায় একজনের গুলি ছোড়ার কথা বলা হলেও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ‘ব্যাকআপ পার্টি’ হিসেবে আরও অন্তত দু’জন অস্ত্র হাতে ঘটনাস্থলে ছিল। পালানোর সময় তারাও গুলি ছুড়েছে। এদিকে কিলিং মিশনের গুরুত্বপূর্ণ আরও দুই সদস্যকে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা হলো- মারুফ খান ও মো. শামীম। তারা এরই মধ্যে গোয়েন্দাজালে রয়েছে। শামীম ঘটনার দিন গ্রেপ্তারকৃত ‘শুটার’ মাসুম মোহাম্মদ ওরফে আকাশকে মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্নেষণ, জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া হত্যায় জড়িত সন্দেহে একটি রিভলবারসহ দামাল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার অস্ত্রটি হত্যায় ব্যবহূত হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার রিফাত রহমান শামীম সমকালকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মতিঝিলকেন্দ্রিক আন্ডারওয়ার্ল্ডের একটি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। ঠিকাদারি ও ইজারাসহ নানা বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টিপুর সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল কারও কারও। বৃহত্তর মতিঝিলের একক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছিল কোনো কোনো গ্রুপ। এর জের ধরেই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা জানান, টিপু খুনের আগে হওয়া বৈঠকে শামীম ও দামাল উপস্থিত ছিল। গ্রেপ্তারকৃত মাসুম উপস্থিত না থাকলেও সে ওই বৈঠকের বিষয়ে জানত। সেই অনুযায়ী সে বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। ঘটনার দিন শামীম তাকে কমলাপুর আইসিডি এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় শাহজাহানপুর। সেখানে মোটরসাইকেল থামিয়ে তাকে নামিয়ে দিয়ে অপেক্ষা করে। টিপুকে গুলি ছোড়ার পর মাসুম আবার ওই মোটরসাইকেলে এসে ওঠে। এবার তাকে খিলগাঁওয়ের গোড়ানে নিয়ে যায় শামীম। সেখানে মোটরসাইকেলটি একজনের কাছে হস্তান্তরের পর তারা দু’জন দুই দিকে চলে যায়। তাদের মধ্যে মাসুম জয়পুরহাটে গিয়ে আত্মগোপন করে। আর শামীম যায় খুলনার দাকোপ এলাকায়। গোয়েন্দাজালে থাকা শামীম মূলত পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ফ্রিডম মানিকের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে কাজ করে। সে মতিঝিল ও শাহজাহানপুর এলাকার চাঁদাবাজির অর্থ মানিকের কাছে পৌঁছে দেয়। ফ্রিডম মানিক দুই দশক আগে রাজধানীর মালিবাগে জোড়া খুন মামলার আসামি।

হত্যাকাণ্ডের মোটিভ প্রসঙ্গে তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, হত্যার কারণ সম্পর্কে যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য একটি জায়গায় এসে পৌঁছেছেন তারা। আগের একটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং সর্বশেষ ক্রীড়া পরিষদের বড় কাজের দরপত্র নিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে টিপুর বিরোধ ছিল। এর জের ধরেই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তারা স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। এই প্রথম কোনো হত্যার নেপথ্যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের চার শীর্ষ সন্ত্রাসী একযোগে কাজ করেছে। তারা হলো- ফ্রিডম মানিক, বিকাশ, জিসান ও মোল্লা মাসুদ। তদন্তে তাদের সংশ্নিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। আর শাহজাহানপুরের পরিকল্পনা বৈঠকে নেতৃত্ব দেয় পলাতক সুমন শিকদার ওরফে মুসা। হত্যার সব আয়োজন চূড়ান্ত করে ঘটনার দু-একদিন আগে সে দেশ ছাড়ে। তবে এ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মুসা ২০১৬ সালে যুবলীগ নেতা রিজভি হাসান বাবু ওরফে বোঁচা বাবু হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত পাঁচ আসামির একজন। সে জামিনে ছিল। টিপু হত্যার পর মামলার হাজিরার তারিখে সে আদালতে যায়নি। পরে তার আইনজীবী আদালতে দেওয়া কাগজপত্রে উল্লেখ করে, করোনা আক্রান্ত হয়ে মুসা বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছে। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, সে দেশে নেই।

দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পর সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী এতদিন একজন গুলি ছুড়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্তে পাওয়া নতুন তথ্য বলছে, সেখানে অন্তত দুই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। ঘটনাস্থলে এমন আলামত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি অস্ত্র মাসুম ওরফে আকাশের হাতে ছিল। সেটি ছিল একটি পিস্তল। অপর অস্ত্রটি সম্ভবত ব্যাকআপ পার্টির কেউ ব্যবহার করেছে। ডিবি যে রিভলবারটি উদ্ধার করেছে, সেটিও ঘটনাস্থলে ব্যবহূত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ২৪ মার্চ রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা টিপুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই সময় তিনি নিজের মাইক্রোবাসে বাসায় ফিরছিলেন। গাড়িটি যানজটে পড়ার পর একটি মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা যুবক তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় দুর্বৃত্তের এলোপাতাড়ি গুলিতে রিকশা আরোহী কলেজছাত্রী সামিয়া আফনান প্রীতিও নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন টিপুর গাড়িচালক মনির হোসেন মুন্না। এ ঘটনায় করা মামলাটির তদন্ত করছে ডিবি। র‌্যাবও ঘটনাটির ছায়াতদন্ত করছে।

Related Articles

Latest Articles