-6.7 C
Toronto
মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২২

নিপাত যাক তালেবান

- Advertisement -
ছবি/রয়টার

কানাডায় আসার পর আমার বেশ কিছু আফগান বন্ধু হয়েছে। এদের সবাই স্থায়ীভাবে কানাডায় থাকে। কিন্তু তাদের পরিবারের অনেকেই আফগানিস্তানে রয়ে গেছেন। জঙ্গী তালেবানদের হাতে কাবুল পতনের পর ওরা সবাই আফগানিস্তানে পরিবারের থেকে যাওয়া সদস্যদের জন্য দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ।

দুপুরে আমার সাবেক সহকর্মী দুইবোন সালমা,অনিতা ও খোশরাজ, নাদভীকে ফোন দিতে হাউমাউ করে কাঁদলো। সালমা,অনিতা সবচেয়ে বেশী উদ্বিগ্ন তাদের বড়বোন ও ভাগ্নিকে নিয়ে। কাবুলের দিকে তালেবানদের অগ্রসর হবার খবর শুনে গত পরশু রাতেই বোনের পরিবার ভয়ে কাবুল ছেড়েছিল। তালেবানদের হাতে ধরা পড়েছে কিনা বেঁচে আছে, দুইদিন যাবত তাদের কোন সংবাদই পাচ্ছে না।

- Advertisement -

খোশরাজ উদ্বিগ্ন কাবুলের বাড়িতে তার মা, তিনবোন ও শতবর্ষী দাদিকে নিয়ে। এরা ছাড়া পরিবারে পুরুষ মানুষ কেউ নেই। কে তাদের সামলাবে সেই চিন্তায় বেচারি ভেঙ্গে পড়েছে।

নাদভীর পরিবার কাবুল শহরের বাহিরে বাস করে। বয়োবৃদ্ধ বাবা-মা ও দুইভাই বোন নিয়ে তার যতো টেনশান। বহু আগে একবার তালেবানরা তার স্কুল শিক্ষিকা বোনকে অপদস্থ করেছিল। এরপর থেকে সেই বোন আর ঘর থেকে বের হতে পারেনি।

এবার কাবুলসহ গোটা আফগানিস্তান তালেবানদের কব্জায়। কি ভয়ংকর পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে, কি অন্ধকার আগামী অপেক্ষা করছে সেই দুঃশ্চিন্তায় আমার বন্ধুরা উদ্বিগ্ন। স্বল্পদিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতায় তারা আমাকে আপনজনই ভাবেন। ফোনের অপর প্রান্ত হতে কান্নার শব্দে কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। একেক করে সবার সাথে ফোনে কথা বলতে গিয়ে ভীষন মন খারাপ হলো। আমার বন্ধুদের স্বজনরা নিরাপদ ও সুস্থ থাকুক সেই কামনা করছি। নিরাপদ থাকুক আফগানিস্তানের সাধারন মানুষ। নিপাত যাক ইসলামী মৌলবাদী জঙ্গী-তালেবান।

মন্ট্রিয়ল, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles