জিএমের সঙ্গে নতুন চুক্তি অনুসমর্থন ইউনিয়নের

জিএমের সঙ্গে নতুন চুক্তি অনুসমর্থন ইউনিয়নের - the Bengali Times
২২ আগস্ট সমঝোতায় পৌঁছনোর পর চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করেছিল কর্মীদের ইউনিয়ন ইউনিফর

জেনারেল মোটরসের সঙ্গে নতুন তিন বছরের দর-কষাকষি চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন কানাডার ইউনিয়নভুক্ত কর্মীরা। চুক্তিতে একদিকে যেমন কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তেমনই কানাডার একাধিক কারখানায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ, নতুন গাড়ি ও ট্রান্সমিশন উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

২২ আগস্ট সমঝোতায় পৌঁছনোর পর চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করেছিল কর্মীদের ইউনিয়ন ইউনিফর। এবার সদস্যদের ভোটে সেই চুক্তি অনুমোদিত হয়েছে। ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ওশোয়া, সেন্ট ক্যাথারাইন্স এবং উডস্টকের সদস্যদের ৮০.৫ শতাংশ চুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে ইঙ্গরসলের ক্যামি প্ল্যান্টের সদস্যদের মধ্যে ৯৬.৫ শতাংশ চুক্তির সমর্থনে মত দিয়েছেন। চুক্তির আওতায় রয়েছেন চারটি প্রতিষ্ঠানের ৪,৬০০-র বেশি ইউনিয়নভুক্ত কর্মী। এর মধ্যে রয়েছে ওশোয়া অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট, ইঙ্গরসলের ক্যামি অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট, সেন্ট ক্যাথারাইন্স প্রোপালশন প্ল্যান্ট এবং উডস্টক পার্টস ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার।

- Advertisement -

নতুন চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ওশোয়া অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে জেনারেল মোটরসের বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা। চুক্তি অনুযায়ী, পরবর্তী প্রজন্মের জিএমসি সিয়েরা এবং শেভ্রলেট সিলভারাডো হেভি ডিউটি ট্রাক উৎপাদনের জন্য প্ল্যান্টটিতে ১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে জিএম। জানুয়ারিতে ওশোয়া প্ল্যান্টে তৃতীয় শিফট বন্ধ হওয়ার পর কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। নতুন চুক্তির আলোচনায় সেই পরিস্থিতিতে ছাঁটাই কমানোর জন্য একটি নতুন কর্মসূচি নিয়েও ইউনিয়ন ও সংস্থার মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ইউনিয়নের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের চাহিদা এবং কোম্পানির উৎপাদন পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের চুক্তির মেয়াদে ওশোয়া অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে দুই শিফটে উৎপাদন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

জিএমের বিনিয়োগের আরেকটি বড় অংশ যাচ্ছে সেন্ট ক্যাথারাইন্স প্রোপালশন প্ল্যান্টে। সেখানে পরবর্তী প্রজন্মের ট্রান্সমিশন সংযোজনের জন্য ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। ২০২৯ সালে নতুন ট্রান্সমিশন সংযোজনের কাজ শুরু হওয়ার কথা। ইউনিফরের দাবি, এই প্রকল্পের ফলে প্ল্যান্টটিতে প্রায় ২৫০টি নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, নতুন চুক্তিতে শুধু বর্তমান কর্মীদের চাকরি সুরক্ষার বিষয়টিই নয়, ভবিষ্যতে উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

ইঙ্গরসলের ক্যামি অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট নিয়েও চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জিএম। বর্তমানে প্ল্যান্টটি উৎপাদনহীন অবস্থায় রয়েছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, সেটি বন্ধ করে দেওয়া বা বিক্রি করার পরিকল্পনা থেকে সরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কোম্পানি। কানাডা সরকার থেকে কার্যাদেশ পাওয়া গেলে কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কাজের জন্য ক্যামি প্ল্যান্টকে প্রথম দিকে বিবেচনা করা হবে বলেও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সরকারি প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত উৎপাদন বা সরবরাহের কাজে প্ল্যান্টটি ব্যবহার করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নতুন তিন বছরের চুক্তিতে কর্মীদের আর্থিক সুবিধার বিষয়টিও রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ৩ শতাংশ করে বেতন বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিসেম্বরের বোনাসের সঙ্গে যোগ্য কর্মীরা ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত উৎপাদনশীলতা বোনাসও পাবেন। ফলে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

জেনারেল মোটরসের কানাডার চারটি ইউনিটের ৪,৬০০-র বেশি ইউনিয়নভুক্ত কর্মী এই চুক্তির আওতায় রয়েছেন। ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি সংশ্লিষ্ট ইউনিটেই চুক্তিটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেয়েছে। নতুন চুক্তির মূল বিষয়গুলি হল : তিন বছরের জন্য নতুন শ্রমচুক্তি, প্রতি বছর ৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি। যোগ্য কর্মীদের জন্য ১০ হাজার ডলার উৎপাদনশীলতা বোনাস, ওশোয়ায় হেভি ডিউটি ট্রাক উৎপাদনে ১৪.৪ কোটি ডলার বিনিয়োগ, সেন্ট ক্যাথারাইন্সে পরবর্তী প্রজন্মের ট্রান্সমিশন প্রকল্পে ২১.৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ, সেন্ট ক্যাথারাইন্সে প্রায় ২৫০টি নতুন চাকরির সম্ভাবনা, ক্যামি প্ল্যান্ট বন্ধ বা বিক্রি না করার প্রতিশ্রুতি এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সরকারি কার্যাদেশ পেলে ক্যামি প্ল্যান্টকে বিবেচনার সুযোগ।

চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর কানাডায় জিএমের উৎপাদন কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এর প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে ওশোয়া ও সেন্ট ক্যাথারাইন্সে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ এবং ক্যামি প্ল্যান্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিক হয়ে উঠেছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles