দ্বিতীয় প্রান্তিকে কানাডার জিডিপি বেড়েছে ৩.৩%

দ্বিতীয় প্রান্তিকে কানাডার জিডিপি বেড়েছে ৩.৩% - the Bengali Times
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন জিডিপি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার তুলনায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হয়েছে কানাডার অর্থনীতিতে। বছরের শুরুতে পরপর দুই প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ায় মন্দার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকের ভালো ফল সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমিয়েছে। যদিও অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা, সামনে নতুন করে শুল্ক আরোপ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঘিরে অনিশ্চয়তা এই প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ সালের পর এটিই কানাডার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রান্তিক প্রবৃদ্ধি। শুধু তাই নয়, এই হার ব্যাংক অব কানাডার পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল।

- Advertisement -

বিএমওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ডাগ পর্টার এই ফলকে যথেষ্ট শক্তিশালী বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিঃসন্দেহে ভালো খবর। গত দুই দশকের হিসাবে কানাডার অর্থনীতি সাধারণত প্রায় ২ শতাংশ হারে বেড়েছে। সেই তুলনায় সর্বশেষ প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবেই বেশি।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে কানাডার রপ্তানি খাতও ভালো পারফরম্যান্স করেছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার হিসাবে, এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। বিশেষ করে যাত্রীবাহী গাড়ি এবং লাইট ট্রাকের চালান বৃদ্ধি সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর আগে টানা দুই প্রান্তিকে গাড়ি উৎপাদনে পতন দেখা গিয়েছিল। ফলে এই খাতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রভাব দ্বিতীয় প্রান্তিকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে স্পষ্ট হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকের এই প্রবৃদ্ধি কানাডার অর্থনীতির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সংকুচিত হয়েছিল। তার আগের প্রান্তিকেও অর্থনীতি সংকোচনের মুখে ছিল। অর্থাৎ টানা দুই প্রান্তিকে দুর্বল পারফরম্যান্সের পর কানাডা মন্দার মধ্যে ঢুকে পড়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। এদিকে শুধু ত্রৈমাসিকের সামগ্রিক হিসাব নয়, জুন মাসের পরিসংখ্যানও কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, জুনে দেশটির জিডিপি দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

অর্থনীতির এই সর্বশেষ তথ্য ব্যাংক অব কানাডার পরবর্তী সুদের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্তের আগেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল এবং তার আগে প্রকাশিত বড় অর্থনৈতিক উপাত্তগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

ব্যাংক অব কানাডা এর আগে টানা ছয়টি বৈঠকে বেঞ্চমার্ক সুদের হার ২ দশমিক ২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তবে অর্থনীতির সামনে ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে যায়নি। নতুন দফার শুল্ক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা কানাডার রপ্তানি ও উৎপাদন খাতে চাপ তৈরি করতে পারে। ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকের শক্তিশালী গতি আগামী মাসগুলোতেও বজায় থাকে কি না, এখন সেটিই অর্থনীতিবিদদের অন্যতম প্রধান নজর।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles