ফিফা বিশ্বকাপের প্রভাব সামান্য

ফিফা বিশ্বকাপের প্রভাব সামান্য - the Bengali Times
বিশ্বকাপকে ঘিরে পর্যটক ও ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় বাড়লেও কানাডার অর্থনীতিতে এর প্রভাব প্রত্যাশার তুলনায় বেশ সীমিত

ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে পর্যটক ও ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় বাড়লেও কানাডার অর্থনীতিতে এর প্রভাব প্রত্যাশার তুলনায় বেশ সীমিত। বরং জুন মাসে পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে সামান্য পতনও দেখা গেছে। শুক্রবার প্রকাশিত স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে কানাডার টরন্টো ও ভ্যানকুভারে বিপুল সংখ্যক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। পুরো টুর্নামেন্টে দেশটিতে মোট ১৩টি ম্যাচ আয়োজন করা হলেও জুন মাসেই হয়েছে ১০টি ম্যাচ। ফলে ওই সময়ে বিদেশি পর্যটক এবং ফুটবল সমর্থকদের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে প্রত্যাশা ছিল। তবে সেই বাড়তি ভিড় হোটেল ব্যবসায় প্রত্যাশিত সাফল্য এনে দিতে পারেনি। জুনে অ্যাকোমোডেশন বা আবাসনসেবা খাত মে মাসের তুলনায় ০.৭ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে বিমানযাত্রার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে সামান্য পতন। মে মাসের তুলনায় জুনে আকাশপথে ভ্রমণ কমেছে ০.৫ শতাংশ।

- Advertisement -

অবশ্য পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের সব অংশে একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়নি। জুনে বার ও রেস্তোরাঁয় বিক্রি ০.৬ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দর্শক ও পর্যটকদের বাড়তি আনাগোনার কিছুটা সুফল পেয়েছে খাদ্য ও পানীয় ব্যবসা।

পরিবহন খাতেও বিশ্বকাপের প্রভাব কিছুটা স্পষ্ট হয়েছে। জুনে শহুরে গণপরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় ১.৭ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি শিল্প, বিনোদন ও অবসর খাতের মধ্যে ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় জুনে ১.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের আগে কানাডার অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে নানা যুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে পর্যটক বৃদ্ধি, হোটেল-রেস্তোরাঁয় ব্যবসা এবং স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাহিদার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু জুনের পরিসংখ্যান সেই প্রত্যাশাকে খুব একটা সমর্থন করছে না। কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ও ক্রীড়া অর্থনীতিবিদ মোশে ল্যান্ডারও মনে করছেন, বিশ্বকাপ টরন্টো ও ভ্যানকুভারের অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত বড় ধরনের গতি আনতে পারেনি।

মন্ট্রিয়ল থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গ্রীষ্মের সময় এমনিতেই টরন্টো ও ভ্যানকুভার কানাডার জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। বিশ্বকাপ উপলক্ষে যারা শহর দুটিতে এসেছেন, তাদের সবাই যে শুধুমাত্র বিশ্বকাপের কারণে এসেছেন এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ল্যান্ডারের যুক্তি, বিশ্বকাপ না হলেও ওই সময়ে অনেক পর্যটক অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই দুই শহরে আসতেন। ফলে বিশ্বকাপের কারণে আসা দর্শনার্থীদের একটি বড় অংশকে প্রকৃতপক্ষে নতুন পর্যটক হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। বরং এক ধরনের পর্যটকের জায়গায় আরেক ধরনের পর্যটক এসেছে এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

ফলে বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে যে বিপুল অর্থনৈতিক লাভের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, জুনের পরিসংখ্যান অন্তত এখনই তার শক্ত প্রমাণ দিচ্ছে না। তবে পুরো টুর্নামেন্টের অর্থনৈতিক প্রভাব বুঝতে জুনের পরবর্তী মাসগুলোর তথ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন ও ব্যবসায়িক পরিসংখ্যানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles