
কানাডার প্রখ্যাত ব্রডকাস্টার ও অর্ডার অব কানাডার সম্মাননাপ্রাপ্ত পামেলা ওয়ালিন সেনেট থেকে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার সেনেটের ওয়েবসাইটে তার জীবনীতে তাকে সাবেক সেনেটর হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে তার পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও ওয়ালিন ও তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সোমবার বিকেল পর্যন্ত সেনেট ছাড়ার বিষয়ে তিনি নিজেও প্রকাশ্যে কোনো বিবৃতি দেননি।
কানাডার রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম আইপলিটিক্স প্রথম তার পদত্যাগের খবর প্রকাশ করে। সেনেটের চেম্বার ক্লার্কের পাঠানো একটি নোটের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
ওয়ালিনের পদত্যাগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কানাডিয়ান সেনেটরস গ্রুপ। সংগঠনটির পক্ষে সেনেটর ফ্লোরডেলিজ ওলসার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ওয়ালিনের দীর্ঘ সাংবাদিকতা ও জনজীবনের অবদানের প্রশংসা করেন।
বিবৃতিতে ওলসার বলেন, ওয়ালিন তার পুরো জীবন কঠিন প্রশ্ন উত্থাপন, প্রচলিত চিন্তাধারাকে চ্যালেঞ্জ করা এবং নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকার মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। তার স্বাধীনচেতা মনোভাব, দৃঢ়তা ও স্পষ্ট বক্তব্য কানাডার জনজীবনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কানাডার সম্প্রচার সাংবাদিকতায় দীর্ঘ ও উল্লেখযোগ্য কর্মজীবন রয়েছে ওয়ালিনের। ১৯৮৫ সালে কানাডা এএম অনুষ্ঠানের সহ-উপস্থাপক হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কানাডার প্রথম জাতীয় টেলিভিশন নিউজ ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৭ সালে তাকে অফিসার অব দ্য অর্ডার অব কানাডা সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। দেশটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের দেওয়া হয়।
সাংবাদিকতা থেকে রাজনীতিতে আসার পর ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার তাকে কানাডার সেনেটে নিয়োগ দেন। এরপর থেকে তিনি দেশটির উচ্চকক্ষের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তার পদত্যাগের ফলে সেনেটে তার দীর্ঘ দায়িত্বের অবসান ঘটল। তবে ঠিক কী কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

