
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে ৩০ বছর বয়সী এক শিক্ষিকার বিচার চলছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশটির আদালতে শুনানির সময় ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন প্রসিকিউটররা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষিকার নাম ব্রনওয়েন জেমস। অভিযোগ, তিনি প্রথমে ওই কিশোরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও ফ্লার্টপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে গোপনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটে যোগাযোগ করে তার সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করতেন।
প্রসিকিউশনের আইনজীবী এডওয়ার্ড কালভার আদালতে বলেন, ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি দিতেন জেমস। ওই সময়ই কিশোরটি তার কাছে স্ন্যাপচ্যাটের পরিচয় জানতে চায়। প্রথমে জেমস এতে রাজি না হলেও পরে নিজেই তাকে স্ন্যাপচ্যাটে যুক্ত করেন।
এরপর দুজনের মধ্যে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান শুরু হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, একপর্যায়ে সেই কথোপকথন ঘনিষ্ঠ ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরে তারা ওয়েস্টন শোরে দেখা করে এবং গাড়ির ভেতরে চুম্বন করে বলে আদালতে জানানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে ওই কিশোর জেমসের বাড়িতে গেলে দুজন একসঙ্গে টেলিভিশনে টেনিস খেলা দেখেন। পরে তাদের মধ্যে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে যৌনসম্পর্ক স্থাপিত হয় বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।
আদালতে প্রসিকিউটররা আরও দাবি করেন, জেমস ওই কিশোরকে বলেছিলেন যে তিনি তাকে ‘ভালোবাসেন’ এবং দুজন একসঙ্গে দূরে কোথাও চলে যেতে চান। কিশোরটির দাবি, শুরুতে সে সম্পর্কটিকে ভালো মনে করলেও পরে তার মনে হয়, তাকে ধীরে ধীরে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রভাবিত করা হয়েছিল।
তবে ব্রনওয়েন জেমস তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আদালতে তিনি লিখিত বক্তব্যও দিয়েছেন।
মামলাটির বিচার চলমান রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

