
ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এক বছর আগে হামলার শিকার হওয়ার পরও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তি ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব বৈশাখী ইসলাম (বর্ষা)। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
রোববার বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন বর্ষা। তিনি বলেন, গত বছরের ৩১ মে ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোয় স্থানীয় ব্যক্তি বাদল ও বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার এক বছর পার হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিচারিক অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্ষার দাবি, এক সময় ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী সরাসরি ইভটিজিং ও হামলার সঙ্গে জড়িত থাকলেও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে তাকে নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী হওয়ায় তাকে এবং তার পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্ষা আরও বলেন, চলতি কুরবানির ঈদে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তাদের পরিবার পশু কুরবানি দিতে পারেনি। গ্রামের প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কুরবানির মাংস পাওয়ার আশা থাকলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের পরিবারকে কোনো মাংস দেওয়া হয়নি। এমনকি যেসব আত্মীয়-স্বজন তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন বা খোঁজখবর নেন, তাদেরও কুরবানির মাংসের ভাগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এনসিপির এই নেত্রী অভিযোগ করেন, এলাকায় গেলে তার বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করে হামলা কিংবা হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে শুনেছেন। পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবং বাবা-মায়ের অনুরোধে তিনি ঈদের সময় নিজ গ্রামে যাননি।
তিনি বলেন, “বাবা-মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে এলাকায় যাইনি। ফলে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে ঈদ উদযাপন করাও সম্ভব হয়নি।”
প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বর্ষা ফরিদপুর জেলা শাখার একজন সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় ছাত্রশক্তি ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে বর্ষার উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি কিংবা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

