‘ফাঁদে’ ফেলে কলেজছাত্রকে হত্যা, নেপথ্যে প্রেম, বিচ্ছেদ ও ব্ল্যাকমেল: পিবিআই

‘ফাঁদে’ ফেলে কলেজছাত্রকে হত্যা, নেপথ্যে প্রেম, বিচ্ছেদ ও ব্ল্যাকমেল: পিবিআই - the Bengali Times
কলেজছাত্র ইমন হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

প্রেমের সম্পর্ক, বিচ্ছেদ এবং ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও প্রকাশের হুমকিকে কেন্দ্র করে কলেজছাত্র ইসমাইল হোসেন ওরফে ইমনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির তদন্তে উঠে এসেছে, ঈদুল ফিতরের দিন দেখা করার কথা বলে ডেকে এনে ধাপে ধাপে সাজানো ‘মৃত্যুফাঁদে’ ফেলে তাঁকে হত্যা করা হয়।

সম্প্রতি পিবিআই সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত ‘পরিচয়হীন অজ্ঞাতনামা মৃতদেহ এবং ক্লুলেস মার্ডার মামলার তদন্ত’ শীর্ষক বইয়ে এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

- Advertisement -

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৩ মে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পরদিন আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে ইমনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় মামলা হলে তদন্তভার পায় পিবিআই।

তদন্তে জানা যায়, ইমনের সঙ্গে এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক চলাকালে তাঁদের কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ইমনের কাছে চলে যায়। পরবর্তীতে সম্পর্ক ভেঙে গেলে ওই তরুণীর অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়। এ অবস্থায় ইমন তাঁর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ শুরু করেন এবং দেখা করার জন্য চাপ দেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পিবিআই জানায়, এ পরিস্থিতিতে তরুণী তাঁর হবু স্বামী কামরুজ্জামান, চাচা তোবারক ফরাজী এবং আরেক সহযোগীকে নিয়ে ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ধাপে ধাপে হত্যার ফাঁদ তৈরি করা হয়েছিল এবং পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাড়ে চার ঘণ্টার মতো সময় লেগেছিল।

হত্যার দিন বিকেলে স্থানীয় একটি কলেজ মাঠে ইমনের সঙ্গে দুই তরুণীর দেখা হয়। এর আগে অভিযুক্তরা একটি ছুরি এবং ঘুমের ওষুধ মেশানো কোমল পানীয় সংগ্রহ করেন। পরে ইমনকে ওই পানীয় পান করানো হয় এবং অটোরিকশায় করে পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নদীর তীরে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তরুণী ছুরি দিয়ে ইমনের গলায় আঘাত করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে কামরুজ্জামানও হামলায় অংশ নেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারের পর ওই তরুণী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বলেন, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা বা আবেগতাড়িত হত্যাকাণ্ড ছিল না। বরং পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেখা করার নামে ডেকে এনে ইমনকে হত্যা করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নির্দিষ্ট ভূমিকা ছিল এবং তারা সবাই একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাজ করেছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles