ফোরজির লাইসেন্স আগামী মাসেই
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশে ফোরজি ইন্টারনেট চালু হবে। এজন্য দুই সপ্তাহের মধ্যে চতুর্থ প্রজন্মের উচ্চগতির এ সেবার লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

অল্প সময়ের মধ্যে লাইসেন্স প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ প্রক্রিয়া শেষে স্পেকট্রাম নিরপেক্ষতা (নেট নিউট্রালিটি) নিশ্চিত করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বুধবার এক বৈঠকে বিটিআরসিকে যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফোরজি চালুর নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন পরবর্তী প্রজন্মের এ সেবা দেয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।

বিটিআরসির হাতে এখন সব মিলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডে প্রায় ৪০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম রয়েছে। গত বছর নিলামের কথা থাকলেও কারিগরি জটিলতায় তা হয়নি। চলতি বছর সেসব জটিলতা কাটিয়ে ওঠা গেছে বলে জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

এ দিকে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভালো সেবা দিতে তাদের বাড়তি স্পেকট্রাম দরকার। তবে এখন স্পেকট্রাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নেট নিউট্রালিটি পেয়ে গেলেই তারা ফোরজি চালু করতে পারবেন।

একটি অপারেটরের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ফোরজি সেবা দেয়ার মতো প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। তবে এজন্য প্রয়োজন স্পেকট্রাম ব্যবহারের নেট নিউট্রালিটি।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নেট নিউট্রালিটির বিষয়টি এমনিতেই সমাধান করা যাবে।

সূত্র জানায়, এবার লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে একটু ভিন্ন হবে। নতুন পদ্ধতিতে প্রথমে লাইসেন্স দেয়া হবে। এরপর স্পেকট্রামের নিলাম হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান চারটি অপারেটরকে লাইসেন্স অফার করা হবে। একইসঙ্গে উন্মুক্ত থাকবে নতুন আগ্রহীদের জন্যও।

এ পদ্ধতিতে লাইসেন্স পাওয়া অপারেটরই শুধু স্পেকট্রামের নিলামে অংশ নেয়ার অনুমোদন পাবে।

এর আগে বিটিআরসি ৭০০ ব্র্যান্ডে ফোরজি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও এখন তারা যে কোনো ব্র্যান্ডে এ সেবা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কমিশন বৈঠক করে সরকারের কাছে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

সব মিলে আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে দেশের গ্রাহকরা ফোরজি সেবা ব্যবহার করতে পারবেন বলে আশা করছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান। এর আগে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও ফোরজি চালুর প্রক্রিয়া দ্রুততর করার নির্দেশ দেয়া হয়। দেশে ২০১২ এপ্রিলে টেলিটক ও ২০১৩ সালের শেষ দিকে বেসরকারি অপারেটরগুলো তৃতীয় প্রজন্মের থ্রিজি সেবা দেয়া শুরু করে। এখন পর্যন্ত তিন কোটির বেশি গ্রাহক উচ্চগতির ডেটা ব্যবহারের জন্য থ্রিজি সংযোগ নিয়েছেন। যদিও গতি ও দাম নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বেশ ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে।

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:২৮:২৪