নতুন সঙ্কট সৃষ্টি না করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান ফখরুলের
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
নতুন সঙ্কট সৃষ্টি না করে নির্বাচনকে সামনে রেখে আলোচনার মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান সব সমস্যা শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত থাকার বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, অন্যায়ভাবে মিথ্যা অভিযোগে বেগম জিয়াকে কারাদণ্ড দিয়ে সরকার জনগণকে ক্ষুদ্ধ করেছে। এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেশের জনগণের মধ্যে দারুণ ক্ষোভের সৃষ্টি করবে। যা কারো জন্যই প্রত্যাশিত নয়। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা বরং আলোচনার মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান সব সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানকে দেশের স্বার্থে একান্ত প্রয়োজন। নতুন সঙ্কট সৃষ্টির পরিবর্তে সরকারের উচিত বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানের উদ্দেশে ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়া।

সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জড়িত। আইনমন্ত্রী বলেছেন, সেপ্টেম্বর মাসের এই মামলায় রায় হবে এবং ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই রায়ের পর বিএনপির নেতৃত্ব সঙ্কটে পড়বে। 'এর অর্থ হলো- ওবায়দুর কাদের জানেন যে, কী রায় হতে যাচ্ছে'- বলে মন্তব্য করেন ফখরুল 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিচারধীন মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতারা নির্বিঘ্নে এবং ক্রমাগত এমন বক্তব্য রাখতে পারেন- যা মামলার রায় প্রভাবিত করতে পারে। কোন মামলার রায় তবে হবে, এটা এখন আর বিচারকগণ নয়, দেশের আইনমন্ত্রী স্থির করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা বিচার বিভাগকে দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ইচ্ছা পূরণের অপচেষ্টায় রত রয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং জাতীয় রাজনীতিতে এর বিষময় পরিণতি সম্পর্কে পুনরায় ভাবার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছি।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের জড়িত না থাকায় বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরেন মির্জা আলমগীর। সেগুলো হলো- বিএনপির শাসন আমলে মুফতী হান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়, মুফতী হান্নানের ২য় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গেলেও ১ম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর গুরুত্ব কী? দেশের প্রচলিত আইন এবং হাইকোর্টের বিভিন্ন রায়ে এটা স্বীকৃত যে কোন আসামীর ২য় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, বিখ্যাত ভারতীয় সাংবাদিক কুলদীপ নায়ারকে শেখ হাসিনা বলেছিলেন যে- গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জড়িত ইত্যাদি।

 

 

 

২৭ আগস্ট, ২০১৮ ১২:০০:১২