সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যাক্ষ সাবিতা রেজওয়ানা
'আমি ঢাবির দুই হাজার মেয়ের ছাত্রত্ব বাতিল করে দেব'
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত ছাত্রীদের ডেকে ছাত্রত্ব বাতিল, গোয়েন্দা নজরদারি ও মামলার হুশিয়ারি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুব মহিলা লীগের এই কেন্দ্রীয় নেতা বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রদীপ্ত ভবনের নিচে ডেকে এ হুশিয়ারি দেন। এ নিয়ে একটি অডিও রেকর্ডও প্রকাশ পেয়েছে। খবর আরটিভি অনলাইন'র।

ছাত্রীদের উদ্দেশে সাবিতা রেজওয়ানাকে বলতে শোনা যায়, ‘অনেকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেয়। ইনটেলিজেন্স সেল দেখবে যে কারা কারা বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিচ্ছে। আই ডোন্ট ওয়ান্ট অ্যানি ইনভলভমেন্ট। এরপর এই হলে ছাত্রলীগ যদি গন্ডগোল করে আমাকে বিচার দেবে। জেনারেল মেয়ে গন্ডগোল করলে আমাকে বিচার দেবে। এখন থেকে হল সিট হল প্রশাসন দেবে। আর কোনো পয়েন্টে এর বাইরে আর কোনো সিট হবে না।

হলে যদি আর কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে বা তোমরা কোনো পোস্ট দেওয়ার চেষ্টা করো হলকে বিভ্রান্ত করার জন্য, তাহলে কিন্তু আমরা সরকারকে বলব...আমার নলেজের বাইরে আমার ভিডিও যে আপলোড করে সেটা কিন্তু ক্রাইম। আজকে আমি বলে দিলাম সেটা কিন্তু সাইবার ক্রাইম...আই ওয়ান্ট টু বি লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। কারও কিছু প্রশ্ন আছে?’ 

জবাবে ছাত্রীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ নেত্রী ইশরাত জাহান এশাকে কেন্দ্র করে যা যা ঘটেছে, তাতে হলের দুই হাজার ছাত্রী সম্পৃক্ত ছিল বলে উল্লেখ করেন। তখন সাবিতা রেজওয়ানা বলেন, ‘দুই হাজার মেয়ে কিছু করেনি। আমার সিসিটিভি ফুটেজে আছে কারা কারা করেছে। দুই হাজার মেয়ে সাক্ষর দাও, আমি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেব। আমি দুই হাজার মেয়ের ছাত্রত্ব বাতিল করে দেব।

আমার শিক্ষকেরা দেখেছে, আমার সিসিটিভি প্রমাণ আছে কারা মেরেছে। তোমরা যদি মেরে থাক, নাম লেখ। ওই দিন যেটা হয়েছে, সেটা অপপ্রচার। ওই মেয়ে যার পা কেটেছে, সে নিজে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। ওর (মোর্শেদা) শুধু পা-ই কেটেছে। এই মেয়েটাকে (এশা) যে পরিমাণ মারা হয়েছে, সেটা কি বিচারে মারা হয়েছে? যে মেয়ে ভয় পেয়েছে, সে নিজে বলেছে। মোবাইল দিয়ে কী করছ?’

এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমানকে ফোন করা হয়। ফোনে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কল কেটে দেন তিনি। এর পর একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।

 

২০ এপ্রিল, ২০১৮ ১২:২৫:৫২