রাত জেগে খেলা দেখছেন, দিনে ঘুমঘুম ভাব কাটাবেন কীভাবে?
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
বিশ্বকাপ তো জমে গিয়েছে৷ কিন্তু এশিয়ায় বসে রাশিয়ার টাইম জোনের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে হিমশিম হতে হচ্ছে ফুটবলপ্রমীদের৷ এদিকে মাঠে ফুল ফোটাবেন মেসি-রোনাল্ডোরা, তখন কি আর চোখে ঘুম আসে? ফলে চলছে দেদার রাতজাগা৷ খেলা শেষ হওয়ার পর আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একপ্রস্থ চর্চা৷ সে সব করে যখন বালিশে মাথা তখন কাক-পক্ষীর ঘুম ভাঙার সময় হয়েছে৷ হাতে গোনা কয়েকটা ঘণ্টা চোখ বোজা৷ মন মেতেছে বিশ্বকাপে৷ কিন্তু শরীর তার ঘড়ির কাঁটা তো মিলিয়ে নেয়নি৷ ফলে সকাল হতে না হতে চোখজুড়ে ঘুম৷ সারা শরীরে ক্লান্তি৷ এদিকে অফিসে ছুটি নেই৷ ফলে কাজ তো করতেই হবে৷ কিন্তু কাজে মন বসাবেন কীভাবে, যখন শরীরেই দিচ্ছে না! খেলাও মিস হবে না আবার ক্লান্তিও কাটানো যাবে এরকমই উপায়ের খোঁজ করছেন সকলে৷ থাকল সেরকমই কয়েকটি টিপস৷

বেশি করে জল পান করুন

বেশি বেশি রাত জাগা হলে পরের দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান৷ জল কম খেলে শরীরে ক্লান্তি জমা হবে৷ তাতে আরও ঘুম নেমে আসবে চোখে৷ ফলে এই সময়টা দিনে অন্তত আট গ্লাস করে জল খান৷ অনেকে আবার এনার্জি ড্রিঙ্ক প্রেফার করেন৷ তবে তাতে সাময়িক শক্তি মেলে বটে৷ কিন্তু যত তাড়াতাড়ি এনার্জি পাওয়া যায়, তত তাড়াতাড়ি ক্লান্তি নেমে আসে৷ ফলে এনার্জি ড্রিঙ্ক এড়িয়ে চলুন৷ খাঁটি বিশুদ্ধ জলেই ভরসা রাখুন৷

কফি খান, তবে পরিমাণমেতো

ক্যাফিন ঘুম কাটাতে সাহায্য করে৷ নার্ভকে চাঙ্গা করে৷ ফলে কড়া এক কাপ কফি খেতেই পারেন৷ তবে তার মানে এই নয় যে, কাপের পর কাপ কফি খাবেন৷ তাতে আবার অন্য অসুস্থতা এসে জুড়ে বসলে বিশ্বকাপটাই মাটি হবে৷

ভাল খাওয়া-দাওয়া করুন

নিয়মিত রাত জাগতে হলে অবশ্যই ভাল খাওয়া দাওযা করুন৷ অনেকে চটজলদি এনার্জির জন্য মিষ্টির দিকে ঝোঁকেন৷  মিষ্টি বা সুগার খেলে এনার্জি মেলে ঠিকই, তবে বেশি না খাওয়াই ভাল৷ এও অনেকটা এনার্জি ড্রিঙ্কের মতোই কাজ করে৷ বরং এই সময় সবুজ শাক-সবজি, ফল ও ডিম খান বেশি করে৷

এসিটা চালিয়ে রাখুন

একে ক্লান্ত৷ তায়ে ঘেমো গরমে বসে থাকতে হলে শরীর থেকে ঘাম বেরবে৷ আরও ক্লান্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা তাতে বেশি৷ আর মানসিক ক্লান্তিও জমা হয়৷ ফলে হালকা করে এসটি চালিয়ে রাখুন৷ তাতে খানিকটা ক্লান্তি কাটবে৷

উজ্জ্জ্বল আলোয় থাকার চেষ্টা করুন

আমাদের শরীর একটি নির্দিষ্ট ছন্দ মেনে চলে৷ রাতের অন্ধকারে ঘুম আর দিনের আলোয় জেগে থাকা এই ছন্দোবদ্ধতায় অভ্যস্ত শরীর৷ তাই দিনে যখন ঘুমঘুম পাবে তখন, আলোটা উজ্জ্বল করে দিন৷ দরকার হলে একটার পরিবর্তে আরও আলো জ্বালিয়ে দিন৷ যাতে ঘুম কাটে৷ যাঁরা নাইট শিফটে কাজ করেন, তাঁদের দিনেই ঘুমোতে হয়৷ তাঁদের শরীর এই নিয়মেই অভ্যস্ত৷ নাইট শিফট থেকে ফেরার পথে তাঁরা অনেকেই সানগ্লাস পরে নেন৷ যাতে ওই উজ্জ্বল আলোয় ঘুম না কেটে যায়৷ এক্ষেত্রে অবশ্য উলটোটা অনুশীলন করতে হবে৷

গান শুনুন, নিজেকে ব্যস্ত রাখুন

ক্লান্তিভাব কাটাতে গান শুনতে পারেন৷ কাজের ফাঁকে ফাঁকে গান শুনতে থাকলে ঘুম থেকে মন সরে যায়৷ এছাড়া নিজেকে ব্যস্ত রাখুন৷ অলসভাবে বসে থাকলে আরও ঘুম আসবে৷ এছাড়া যেহেতু অনেক নিয়ম মানা হচ্ছে না, তাই শরীর ফিট রাখতে হালকা ব্যায়ামও করতে পারেন৷ তবে ঘুমের কোনও বিকল্প নেই৷ তাই অবসর দেখে অবশ্যই ঘুমিয়ে নিন৷

 

২০ জুন, ২০১৮ ২২:৪৭:৩৪