
অনেক সময় আমরা নিজেদের স্বার্থপর মনে করি। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা—মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই অন্যকে সাহায্য করতে আগ্রহী। কঠিন পরিস্থিতিতেও মানুষ অন্যদের বিপদ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, খুব ছোট শিশুরাও সাহায্য করতে আগ্রহী হয়। এমনকি এক বছরের কম বয়সী শিশুরাও কোনো পুরস্কারের প্রত্যাশা ছাড়াই অন্যকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসে। চিং-ইউ হুয়াং বলেন, শিশুদের মধ্যে অন্যের কল্যাণের প্রতি এই আগ্রহ জন্মগত।
শুধু শিশুরাই নয়, প্রাপ্তবয়স্করাও বিপদের মুহূর্তে অসাধারণ মানবিকতা দেখান। যেমন, ম্যানচেস্টার এরিনা বোমা হামলা-র সময় বহু মানুষ নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে অন্যদের বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিল। একইভাবে প্যারিস হামলা-তেও অসংখ্য মানুষ সাহসিকতার পরিচয় দেন। মনোবিজ্ঞানী স্টিভ টেলর বলেন, মানুষ হঠাৎ করেই উদার হয়ে উঠতে পারে—বিশেষ করে সংকটের সময়।
পরোপকারিতা শুধু বড় ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ নয়; দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কাজেও এটি দেখা যায়। কেউ হারানো জিনিস ফিরিয়ে দেয়, কেউ অসুস্থ মানুষকে সাহায্য করে, আবার কেউ প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ায়। এসব কাজ শুধু অন্যের উপকারই করে না, নিজের মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটায়—চাপ কমায়, আত্মসম্মান বাড়ায় এবং একাকীত্ব দূর করে।
মানুষের মস্তিষ্কও সহমর্মিতার জন্য প্রস্তুত। অ্যাবিগেল মার্শ দেখিয়েছেন, যারা নিঃস্বার্থভাবে অন্যকে সাহায্য করেন, তাদের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশ—বিশেষ করে অ্যামিগডালা—আরও সক্রিয় থাকে, যা অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা বাড়ায়।
তবে সবসময় নিঃস্বার্থ হওয়া জরুরি নয়। টনি মিলিগান বলেন, নিজেদের সীমাবদ্ধতা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে ভাবা উচিত—আমি কতটুকু করতে পারি, সেটাই যথেষ্ট।
সংস্কৃতিও মানুষের আচরণে প্রভাব ফেলে। পশ্চিমা সমাজে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বেশি গুরুত্ব পায়, আর এশীয় সমাজে সমষ্টিগত ভাবনা বেশি প্রাধান্য পায়। যেমন, করোনা মহামারির সময় দেখা গেছে, যারা সামাজিক দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দিয়েছেন, তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও অন্যকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে বেশি সচেতন ছিলেন।
সবশেষে বলা যায়, অন্যকে সাহায্য করা মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা। তবে নিজের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই মানবিক হোন, সাহায্যের হাত বাড়ান—কিন্তু নিজের সামর্থ্য ও সীমার কথাও ভুলে যাবেন না।

