
নিষিদ্ধ আগ্নেয়াস্ত্রের বিপরীতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার লক্ষ্যে চালু করা ফেডারেল সরকারের নতুন কর্মসূচির প্রথম সপ্তাহেই উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া গেছে। পাবলিক সেফটি কানাডা জানিয়েছে, কর্মসূচি শুরুর মাত্র সাত দিনের মধ্যে নিষিদ্ধ আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকরা মোট ২২ হাজার ২৫১টি আগ্নেয়াস্ত্রের তথ্য সরকারকে দিয়েছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকরা এই কর্মসূচিতে আগ্রহ প্রকাশ করার জন্য আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত সময় পাবেন। আগ্রহ প্রকাশের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আগ্নেয়াস্ত্রগুলো সরকারকে ফেরত দেওয়া অথবা স্থায়ীভাবে অকার্যকর করার সুযোগ থাকবে। এর বিনিময়ে মালিকদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।
ফেডারেল সরকারের তথ্যমতে, ২০২০ সালের মে মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে বহুল আলোচিত এআর-১৫ আগ্নেয়াস্ত্রও। সরকার মনে করে, এ ধরনের অস্ত্র মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী এবং বেসামরিক ব্যবহারের জন্য এগুলো নিরাপদ নয়। এই বিবেচনাতেই আগ্নেয়াস্ত্রগুলো নিষিদ্ধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, নিষিদ্ধ আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত সাধারণ ক্ষমার (অ্যামনেস্টি) মেয়াদ ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময়সীমার মধ্যে নিষিদ্ধ আগ্নেয়াস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট ডিভাইসগুলো অবশ্যই ধ্বংস করতে হবে অথবা এমনভাবে অকার্যকর করতে হবে, যাতে সেগুলো আর ব্যবহার করা না যায়।
ফেডারেল কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকার প্রায় ২৫ কোটি ডলার বরাদ্দ রেখেছে। এই অর্থ দিয়ে আনুমানিক এক লাখ ৩৬ হাজার আগ্নেয়াস্ত্রের বিপরীতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব হবে বলে সরকারের ধারণা।
বিশ্লেষকদের মতে, কর্মসূচির প্রথম সপ্তাহেই এত বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্রের তথ্য জমা পড়া সরকারের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নীতির প্রতি জনসাধারণের আগ্রহ ও সচেতনতার ইঙ্গিত দেয়। সরকার আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আরও বেশি সংখ্যক অস্ত্র মালিক এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, যা সামগ্রিকভাবে জননিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

