
অন্টারিওর ওয়ার্কপ্লেস সেফটি অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বোর্ড (ডব্লিউএসআইবি) সম্প্রতি একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রচারণার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। তবে এই উদ্যোগ ঘিরে সমালোচনা জোরালো হয়েছে বিরোধীদল ও ইউনিয়ন মহলে। সমালোচকদের অভিযোগ, আহত শ্রমিকদের সহায়তায় ব্যয় করার বদলে সংস্থাটি নিজের ভাবমূর্তি উন্নত করতে অর্থ খরচ করছে।
ডব্লিউএসআইবির এই পাঁচ সপ্তাহব্যাপী টিভি ক্যাম্পেইনে দুটি বিজ্ঞাপন সম্প্রচার করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনগুলোতে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে কাজে ফেরার গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যদিও এগুলো বাস্তব নয় কাল্পনিক কাহিনির মাধ্যমে তৈরি। সংস্থার দাবি, এসব বিজ্ঞাপন কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক।
তবে অন্টারিওর আনুষ্ঠানিক বিরোধীদল এবং ইউনিয়নগুলো এই প্রচারণার কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, টেলিভিশনে প্রচারিত এই বিজ্ঞাপনগুলোর পেছনে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বর্তমান প্রচারণায় ব্যয় হবে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ডলার, আর ২০২৪ সালের শেষ দিকে চালানো আগের ক্যাম্পেইনে ব্যয় হয়েছিল আরও ৪ লাখ ডলার।
এই সমালোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছে ওসিইইউ/সিউপিই ১৭৫০, যা ডব্লিউএসআইবির প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কর্মীর প্রতিনিধিত্ব করে। ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হ্যারি গসলিন বলেন, এই বিজ্ঞাপনগুলো অর্থের অপচয়। তাঁর ভাষায়, “এই অর্থ ডব্লিউএসআইবির মূল দায়িত্ব পালনে আহত শ্রমিকদের সহায়তা ও সেবায় ব্যয় করা উচিত ছিল। আমার কাছে বিষয়টি বেমানান মনে হয়।”
ইউনিয়নের অভিযোগ নতুন নয়। প্রায় এক বছর আগেও ডব্লিউএসআইবির আরেকটি বিজ্ঞাপন প্রচারণা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। তখন অভিযোগ উঠেছিল, সংস্থাটি তার প্রকৃত দায়িত্ব থেকে সরে এসে জনসংযোগমূলক কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সেই প্রচারণা চালানো হয়েছিল সাত সপ্তাহের ধর্মঘটের মাত্র কয়েক মাস আগে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।
ডব্লিউএসআইবির মূল দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যয়বহুল টেলিভিশন বিজ্ঞাপনই কি সবচেয়ে কার্যকর উপায়, নাকি সেই অর্থ সরাসরি আহত শ্রমিকদের সহায়তায় ব্যয় করাই বেশি যৌক্তিক হতো এই বিতর্ক এখনো চলছেই।

