
অন্টারিওর হাসপাতালগুলো আগামী দিনে আরও দীর্ঘ অপেক্ষমাণ সময়, সেবায় তাড়াহুড়া এবং রোগীদের অতিরিক্ত ভিড়ের মুখে পড়তে পারে এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছে একটি নতুন প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাদেশিক প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড–এর সরকারের অপর্যাপ্ত তহবিল নীতিই এই পরিস্থিতির মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
প্রদেশের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যসেবা ইউনিয়ন ওসিএইচইউ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। সেখানে জানানো হয়, সরকারের বাজেট সংকোচনের ফলে এমনিতেই চাপের মধ্যে থাকা অন্টারিওর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও গভীর সংকটে পড়বে।
ইউনিয়নের সভাপতি মাইকেল হার্লি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সরকার আমাদের সরকারি হাসপাতালগুলোকে আবারও কর্মী ও শয্যা সক্ষমতা কমানোর পথে ঠেলে দিচ্ছে। এটি কার্যত হাসপাতাল ব্যবস্থাকে ‘ক্ষুধার্ত’ রাখার সমান। আমরা অন্টারিও সরকারের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করি।”
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফোর্ড সরকার আগামী তিন বছরের জন্য হাসপাতালগুলোর বার্ষিক তহবিল বৃদ্ধি মাত্র ২ শতাংশে সীমিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে এবং একই সঙ্গে তাদের বাজেট ভারসাম্য বজায় রাখার পরিকল্পনা তৈরি করতে বলেছে। অথচ ২০২০ সাল থেকে হাসপাতাল খাতে বার্ষিক গড় তহবিল বৃদ্ধি ছিল প্রায় ৬ শতাংশ।
ইউনিয়নের মতে, এই কম হারে বরাদ্দ বৃদ্ধির ফলে অনেক হাসপাতালকে ক্রমবর্ধমান ঘাটতি সামাল দিতে আরও কঠোর ব্যয়সংকোচন নীতিতে যেতে হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মী নিয়োগ, রোগী সেবা এবং অস্ত্রোপচারের সময়সূচিতে।
অন্টারিওর এফএও–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাজেটে কোনো পরিবর্তন না আনা হলে ২০২৭–২৮ অর্থবছরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাত থেকে প্রায় ৯ হাজার নার্স ও পার্সোনাল সাপোর্ট ওয়ার্কার হারিয়ে যেতে পারে।
ইউনিয়নের দাবি, পরিস্থিতির প্রভাব ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। নর্থ বে, হ্যামিল্টন, অটোয়া, নায়াগ্রা এবং গ্রেটার টরন্টো এরিয়ার হাসপাতালগুলোতে মিলিয়ে অন্তত এক হাজার কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সিইউপিইর অর্থায়নে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যানোস রিসার্চ পরিচালিত এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে জনমতের চিত্র। সমীক্ষা অনুযায়ী, অন্টারিওর ৫৭ শতাংশ বাসিন্দা ফোর্ড সরকারের হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তুষ্ট। একই সঙ্গে ৯৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, হাসপাতালগুলোতে আরও তহবিল জোগান দেওয়া হলে কর্মী ছাঁটাই ও অস্ত্রোপচারের বিলম্ব এড়ানো সম্ভব হবে।
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা কোনো ব্যয়ের খাত নয়, এটি মানুষের জীবন ও মর্যাদার প্রশ্ন। তারা সরকারের কাছে হাসপাতাল খাতে পর্যাপ্ত ও টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে রোগীরা সময়মতো মানসম্মত সেবা পান এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপদ ও স্থিতিশীল কর্মপরিবেশে কাজ করতে পারেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে অন্টারিওর হাসপাতাল ব্যবস্থা এমন এক সংকটে পড়বে, যার প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যখাতেই নয়, পুরো প্রদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতেও দীর্ঘমেয়াদে অনুভূত হবে।

