
টরন্টো ও কুইবেক সিটির মধ্যে প্রস্তাবিত হাইস্পিড রেল প্রকল্পে দৈনিক ট্রেন চলাচলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কানাডা সরকার। প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা ক্রাউন কর্পোরেশনের একটি অভ্যন্তরীণ নথি থেকে এই তথ্য সামনে এসেছে।
নথি অনুযায়ী, প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ হাইস্পিড রেল নেটওয়ার্কটি নির্মিত হলে কানাডার সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চলজুড়ে প্রতিদিন গড়ে ৭২টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করবে। এর ফলে বর্তমান ভ্রমণ সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মন্ট্রিয়ল থেকে টরন্টো যেতে যাত্রীদের সময় লাগবে মাত্র তিন ঘণ্টা।
২০২৩ সালে তৈরি একটি টেকনিক্যাল ব্রিফিংয়ের খসড়া সংস্করণ সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা দি কানাডিয়ান প্রেস-এর হাতে এসেছে। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করে এই নথি সংগ্রহ করা হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, ‘আল্টো’ নামে পরিচিত সংশ্লিষ্ট ক্রাউন কর্পোরেশন সরকারিভাবে প্রকল্প ঘোষণার প্রায় এক বছর আগেই হাইস্পিড রেল প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে বিশদ গবেষণা শুরু করেছিল।
আল্টোর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দৈনিক প্রায় ৭০টি ট্রেন চালানোর ধারণাকে এখনো বাস্তবসম্মত বলেই মনে করছে সংস্থাটি। মুখপাত্র বেনোইট বোর্দো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, টরন্টো ও মন্ট্রিয়লের উভয় দিকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০টি ট্রেন পরিচালনা করা।” বর্তমানে ভায়া রেল এই রুটে উভয় দিকে গড়ে আটটির মতো ট্রেন চালায়।
পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ট্রেনগুলোর মধ্যে কিছু থাকবে এক্সপ্রেস পরিষেবার, যেগুলো সব স্টেশনে থামবে না। এর মাধ্যমে সময় সাশ্রয় ও দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তবে বোর্দো সতর্ক করে জানান, ২০২৩ সালের এই পরিসংখ্যানগুলো প্রাথমিক ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এগুলো এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় এবং প্রকল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হতে পারে।
ভায়া রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে কুইবেক সিটি–টরন্টো করিডোরে দৈনিক গড়ে ৩৯টি ট্রেন যাত্রী পরিবহন করে থাকে।
উল্লেখ্য, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই হাইস্পিড রেল নেটওয়ার্কের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি এটিকে কানাডার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ট্র্যাকে ট্রেনগুলো সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলবে এবং পুরোপুরি বিদ্যুৎচালিত হবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কানাডার আন্তঃনগর যাতায়াতে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।

