
১৮ ডিসেম্বর বিশ্ব আরবি ভাষা দিবস উপলক্ষে প্রবাসী আরব কমিউনিটিগুলোর মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব নতুন করে উঠে এসেছে। কানাডায় বসবাসরত আরব কানাডিয়ানরা বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে আরবি ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রবাসজীবনে মাতৃভাষা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তা রোধে সচেতন হচ্ছেন অনেক আরব বাবা-মা। অন্টারিও প্রদেশের হ্যামিল্টনের ওয়াটারডাউন ইসলামিক স্কুলের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে সন্তানদের আরবি শেখানো হচ্ছে। এখানে সপ্তাহে এক বা দুই দিনের ক্লাস নয়, বরং প্রতিদিনই আরবি ভাষার পাঠ দেওয়া হয়। শিক্ষাবিদদের মতে, অন্যান্য ভাষার মতো আরবিতেও দক্ষতা অর্জনের জন্য অল্প বয়স থেকেই ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
ওয়াটারডাউন ইসলামিক স্কুলের শিক্ষক লেইলাহ জাইদি বলেন, “একজন মা হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, সন্তানদের একাধিক ভাষা শেখানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে তাদের সামনে অনেক সম্ভাবনার দরজা খুলে যায় এবং ভবিষ্যতে তারা আরও ভালো করতে পারে।”
এদিকে, কানাডার ভ্যানকুভারে অবস্থিত ‘মাই রুটস অ্যারাবিক স্কুল’ তরুণ প্রজন্মকে আরবি ভাষার উপভাষার সঙ্গে পরিচিত করে তুলছে। প্রতিষ্ঠানটি ধ্রুপদি আরবি ও কথ্য আরবির মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, কথ্য আরবিতে অন্তত ২২টি আঞ্চলিক উপভাষা রয়েছে, যা বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ধারণ করে।
স্কুলটির ব্যবস্থাপক মাহা নাজি জানান, “আমাদের ক্লাসে ধ্রুপদি আরবির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আমরা বিভিন্ন আঞ্চলিক রূপও শেখাই, যাতে আমাদের সন্তানরা ভাষার মূল পরিচয় ধরে রাখতে পারে।” তিনি জানান, তাদের পাঠ্যক্রমে সিরিয়ান, লেবানিজ ও মিশরীয় উপভাষাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আরব কমিউনিটির সদস্যরাও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভাষা সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছেন। আঞ্চলিক উপভাষার গুরুত্ব তুলে ধরে একটি শিশুতোষ বই লিখেছেন হিবা খালেকি। বইটির মাধ্যমে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই আরব পরিবেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন (ইউনেস্কো) ২০১২ সাল থেকে প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বর বিশ্ব আরবি ভাষা দিবস পালন করে আসছে। এই দিবসের মূল লক্ষ্য হলো আরবি ভাষার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসে বসবাস করলেও ভাষা ও সংস্কৃতির শিকড় ধরে রাখার এই উদ্যোগগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিচয় ও আত্মপরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

