
১৯৮৮ সালের নভেম্বর মাসের ১৫ তারিখে ব্যংকক যাই। সে বছর ঢাকা শহর বন্যায় প্রায় ডুবে গিয়েছিলো। অক্টোবর- নভেম্বর মাসে এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। সাধারণ পাসপোর্ট নিয়ে আমি ভ্রমনে বেরিয়েছিলাম ১৫ দিনের জন্য। ঢাকা বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন তখন বর্তমান সময়ের মতো এতো সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ছিলোনা বলে এখনও মনে পড়ে। আমি পাসপোর্ট হাতে ইমিগ্রশনে ঢুকেছি দেখি দুজন পুলিশের একজন আরেকজনকে বলছে তুই দেখ।
কর্তব্যরত পুলিশ আমার কাছে বললো-৩০০ টাকা দেন । কেন? -আমিতো দেশ ছেড়ে পালাচ্ছিনা কিংবা চাকরীর জন্য অন্য কোথাও যাচ্ছি না আমি যাচ্ছি বেড়াতে । টাকার বিষয়ে সে অনড়। আমি এক টাকাও তাকে দেবনা। পুলিশের সাথে কথোপকথনের এক পর্যায়ে জানলাম তার বাড়ী মাগুরায় তাই বললাম-আপনি স্বরাষ্ট্র সচিব কাশেম জোয়ারদারকে চেনেন? তিনি আমার চাচা । টাকার দাবী শেষ আমি চেকিং এরিয়ায় চলে এসেছি।
২০১৭ সালে কানাডা থেকে ঢাকা বিমান বন্দরে নেমে আমার লাগেজ পেয়ে দেখি তালা খোলা। হাতে ধরে দেখি ওজন কম। বুঝতে বাকী রইলোনা যে ওর ভেতরের জিনিসপত্রের অর্ধেক লোপাট করা হয়েছে। হৈচৈ করে লাভ হবেনা বিধায় নি:শব্দে এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে এলাম। বাসায় এসে খুলে দেখি কিছু রেখেছে বাকী সব নিয়েছে। ৬০ হাজার টাকার সামগ্রী বের করে নিয়েছে যার মধ্যে ছিলো বিভিন্ন গিফট আইটেম।
দেশে যাওয়ার পথে আরো একটি এয়ার পোর্টে ট্রানজিট থাকে সেখানে কোন সমস্যা হয় না হয় ঢাকাতে তাই শংকায় থাকি ব্যাগের তালা খোলে কিনা। এখন আর কোন গিফট আইটেম দেশে যাওয়ার সময় নেইনা। তাই তালাও খুলে না। ওরা যে সময় ব্যয় করে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং এ সেটা করে ব্যাগেজে কি আছে তা নিরুপন করারা জন্য এবং লোপাট করার জন্য। বাংলাদেশের জন্ম থেকেই এ সমস্যা।
আমার বড় বোনকে ১৯৭৬ সালে তার ছোট ৩ মেয়ে সহ বৃটিশ এয়ার ওয়েজের ফ্লাইটে উঠিয়ে দিলাম ঢাকার তেজগাও বিমান বন্দর থেকে জুলাই মাসের কোন এক দিনে। তার সাথে ৬টি লাগেজ ছিলো ২ টিতে ছিলো পরিধেয় কাপড় চোপড়,শাড়ি। বোন এয়ার পোর্টে প্লেনের জানালা দিয়ে পরিস্কার দেখছে তার একটি লাগেজ কেউ একজন উঠিয়ে নিয়ে সরিয়ে রাখছে। সে বুঝতে পেরেছে যে সেটি তার।
লিবিয়া গিয়ে তার লাগেজটি সে আর পায়নি পেয়েছিলো বৃটিশ এয়ার ওয়েজের কাছ থেকে কিছু ক্ষতিপূরণ। কিছু দিন কাটাতে হয়েছে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন আপার স্বামীর সহকর্মী কয়েকজন ডাক্তারের স্ত্রীদের শাড়ী, ব্লাউজ পরে। আপা পুরা বিষয়টি পরে আমাকে জানায়।
বাংলাদেশে কত সরকার গেল আর এলো-বঙ্গবন্ধুর সরকার, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার সরকার, এরশাদের সরকার, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকার, শেখ হাসিনার সরকার এবং তত্বাবধায়ক সরকার। ২০২৪ এ প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের সরকার। এদের কেউই বন্ধ করতে পারেনি এয়ারপোর্টের এই সকল দৃস্কৃতিকারীদের চুরি ডাকাতি। এই চোরদের জন্য টার্মিনাল-৩ চালু করা যায়নি গত ৩ বছর।
এবার ধাক্কা লেগেছে। এখন সোরগোল চলছে। প্রশ্ন হলো কোন অদৃশ্য কারনে এ সব বন্ধ করা যায়না। যাদের লাগেজ থেকে মালামাল চুরি যায় তারাতো এগুলো বিদেশ থেকে চুরি করে আনেনি । বেতনভূক এয়ারপোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেন ব্যর্থ হচ্ছে এসব চুরি রোধে? বিমান বন্দরের এ গুলো বন্ধ হবে কবে? কবে মানুষ স্বস্থিতে দেশে যাবে?
ইয়েলোনাইফ, কানাডা

