
কানাডার অন্টারিও প্রদেশে ২০২৫ সালের আবাসন খাতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরণের ধাক্কা লেগেছে। নতুন প্রকাশিত উপাত্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে প্রদেশটি তার নির্ধারিত বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২৬ শতাংশ পূরণ করতে পেরেছে। অর্থাৎ বছরের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সময় পার হয়ে গেলেও নির্মাণ খাতে আশানুরূপ অগ্রগতি নেই যা প্রদেশটির চলমান আবাসন সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।
কানাডা মর্টগেজ অ্যান্ড হাউজিং কর্পোরেশন (CMHC) সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য বলছে, শুধু আগস্ট মাসেই অন্টারিওতে নতুন ৫,১৪৯টি বাড়ি নির্মাণ শুরু হয়েছে। সংখ্যাটি ২০২৪ সালের আগস্টের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ কম। পুরো বছরের হিসেবে দেখা যায়, ২০২৫ সালে অন্টারিওতে নতুন বাড়ি নির্মাণ শুরু হয়েছে গত বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ কম হারে যা দেশের অন্য কোনো প্রদেশের তুলনায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থা নির্দেশ করছে।
এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পরই প্রাদেশিক সরকারকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অন্টারিও লিবারেল পার্টির এমপিপি আদিল শামজি তীব্র ভাষায় বলেছেন, “ডগ ফোর্ড অন্টারিওর আবাসন খাতকে এমন এক নাজুক অবস্থায় নিয়ে গেছেন যা অন্য কোনো প্রদেশে দেখা যায় না। তিনি হয়তো এই খাতের কবর রচনার পথে রয়েছেন।” বিগত বছরেও প্রদেশটি তার আবাসন লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল। এমনকি দীর্ঘমেয়াদি কেয়ার বেড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস নির্মাণকে হিসাবের মধ্যে ধরেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।
সমালোচনার মুখে আবাসনমন্ত্রী রব ফ্ল্যাক সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে অন্টারিওর বাড়ি নির্মাণ খাতে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নির্মাণ ব্যয় ক্রমশ বেড়ে যাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় বাধা। মন্ত্রী বলেন, “আমরা কিছুটা অগ্রগতি করেছি ঠিকই, কিন্তু অনেক চ্যালেঞ্জ এমন যার নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই।”
তার কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, এই চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতি। মুখপাত্র আরও বলেন, “এই সব চ্যালেঞ্জ স্বাভাবিক নয়। তবুও আমরা পরিস্থিতি সামলাতে চেষ্টা করছি।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্মাণ উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিকের ঘাটতি, এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা অন্টারিওর আবাসন খাতের পুনরুদ্ধারে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি দ্রুত নগর পরিকল্পনা সংস্কার, নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সরলীকরণ, এবং সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি না করে, তাহলে প্রদেশটি তার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও অর্জন করতে পারবে না।
অন্টারিও সরকারের লক্ষ্য ছিল ২০২৫ সালে প্রায় ১.৫ লাখ নতুন ইউনিট নির্মাণের। কিন্তু বর্তমান অগ্রগতির হারে চললে বছরের শেষে সেই সংখ্যা ৬০ হাজারের কাছাকাছি গিয়ে থামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, আবাসন খাতের যে স্বপ্ন নিয়ে সরকার পথ চলেছিল, তা এখন ধীরে ধীরে বাস্তবতার ভারে ভেঙে পড়ছে।
নাগরিকদের জন্য এর প্রভাব স্পষ্ট বাড়িভাড়া আরও বাড়বে, গৃহস্বপ্ন আরও দূরে সরে যাবে, আর অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের ওপর।
চলমান সংকট ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্টারিওর আবাসন খাত এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সরকারের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই স্থবিরতা থেকে প্রদেশটি কতটা দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারে, নাকি আবাসন সংকট আরও গভীর হয়ে নাগরিক জীবনে নতুন দুঃসহ বাস্তবতা বয়ে আনবে।

