
এমনিতেই বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ সব সময় খুব জটিল ছিল। এটি এখন আরো ভঙ্গুর ও চরম পিচ্ছিল ধরনের হয়ে পড়েছে। এ পথে হাঁটা খুব কঠিন।
বাংলাদেশে পরিণতরা আগে থেকেই দূর্নীতিগ্রস্থ। আর অপরিণত বয়সীরা গতবছর থেকে নতুন করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে গেছে। এদেরকে নিয়ন্ত্রন করে ঘরে ফেরানো খুব চ্যালেন্জিং।
সবখানে মারামারি খুনোখুনি এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। মানুষের জীবনের চেয়ে গরুছাগলের মূল্য বেশি মনে হচ্ছে।
এমতাবস্থায় সমাজে ও রাষ্ট্রে শৃংখলা ফেরানোর কোন উদ্যোগ নেই। অনেকটা মাৎস্যনায় অবস্থা।
মাৎস্যনায় বলতে এমন এক অবস্থা বুঝায় যেখানে বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে। কিন্তুু বাংলাদেশে ভিন্ন অবস্থা। এখানে বরং ছোটমাছ বড় মাছকে খেয়ে ফেলছে।
এ মুহুর্তে বাংলাদেশ টিকে আছে তার হাজার বছর ধরে লালিত সামাজিক নিয়মকানুনের অবশিষ্টাংশ দ্বারা। প্রকৃতির খেয়ালেও বলা যেতে পারে।
বলা হচ্ছে বাংলাদেশের জন-আকাংখা হল একটি সাধারন নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর। কিন্তুু এই সাধারন নির্বাচন আদৌ হবে কীনা তা নিয়ে চরম সংশয় রয়েছে। যদি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ও, সেই নির্বাচনকে পরাজিত দলগুলো মেনে নেবে কীনা সন্দেহ রয়েছে।
নির্বাচনকালীন ও নিবার্চনত্তোর মারামারি ও খুনোখুনির ঘটনা ঘটার যথেষ্ট সম্ভবনা রয়েছে। তবে এরকম সহিংসতা এড়াতে সারাদেশে একদিনে নির্বাচন না করে জেলা অথবা বিভাগওয়ারী নির্বাচন করা যেতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল সব বিভাগের নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে প্রকাশ করা উচিৎ হবে। তাহলে হয়ত মোটামুটি একটা সুষ্ঠ নির্বাচন করা সম্ভব।
আরেকটি কথা। সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে যাঁরাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাঁদের পক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে সরকার চালানো সম্ভব নাও হতে পারে। কারন যেকোন সরকারকে অস্থিতিশীল করার সব রকমের উপাদান এখন বাংলাদেশে বিদ্যমান।
দূর্নীতিগ্রস্থ ভঙ্গুর প্রশাসন, কালোটাকা,পেশিশক্তি, চরম ডানপন্থি শক্তির উত্থান ও তাদের পেশিশক্তি, আওয়ামীলীগকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা–সবমিলে কীভাবে সুষ্ঠ নির্বাচন হবে আর কীভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে–তা সময়ই বলে দিবে।
তবুও নির্বাচন হোক। জনগনের ম্যান্ডেটের সরকার ক্ষমতায় আসুক। এছাড়া তো আর কোন ভালো বিকল্প নেই। এতে সমস্যার অনেকটা সমাধান হতেও পারে। বাংলাদেশ আবার স্বাভাবিক পথে হাঁটার সক্ষমতা ফিরেও পেতে পারে।

