টরন্টোর মেইড ফর ইচ আদার

টরন্টোর মেইড ফর ইচ আদার - the Bengali Times
আমার বিয়ে বার্ষিকী ১৫ই জুলাই ভাবলাম নিজের আর কিবা বলবো বরং আজ বন্ধুজনের কারো বিবাহ বার্ষিকী আছে কিনা খুজিপেয়ে গেলাম বন্ধুজন হাবিবুল্লাহ দুলাল ও প্রিয় রেখা ভাবীর বিয়ের দিন আজই

আমার বিয়ে বার্ষিকী ১৫ই জুলাই। ভাবলাম নিজের আর কিবা বলবো! বরং আজ বন্ধুজনের কারো বিবাহ বার্ষিকী আছে কিনা খুজি।পেয়ে গেলাম বন্ধুজন হাবিবুল্লাহ দুলাল ও প্রিয় রেখা ভাবীর বিয়ের দিন আজই! প্রবাদবাক্য হচ্ছে Maid for each other বাংলায় ‘দু’জন দু’জানর’ বলতে যা বোঝায় দুলাল-রেখার সংসার জীবন যেন তাই ছিলো। কোন সুখি স্থপতির নকশা যেন আঁকা। রেখা ভাবী ছিলেন অসাধারণ তার জন্যেই সংসারটি ছিলো অসাধারণ। দেখতেও ছিলেন তিনি অসাধারণ! বাঙালিনারী খুবই কম নারী হন এমন লম্বা ও দৃশ্যত অপূর্ব সুন্দর। রাধুনী হিসেবেও শ্রেষ্ঠদের শ্রেষ্ঠ ছিলেন তিনি। অন্তত আমার জীবনে ওনার হাতে করা ‘দইবড়া’ চেয়ে সুস্বাদু এমন আর কোথাও পাইনি,খাই নাই। সংসারের শাখা প্রশাখায় ফুল ফল হচ্ছে সন্তানেরা।তাদের কন্যা এলো শাওন,পুত্র এলো রাজন এবং কন্যা এলো সাজন। রেখা ভাবী ঘরের বাইরেই ও নাইকী তে সুনামের সঙ্গে কর্মরত ছিলেন। তার স্টাফ সেলের সুযোগে আমাদের কুপন দিতেন। যা দিয়ে নাইকীর কত কিছু আমরা কিনতাম। আজও আমার ইয়োগা প্যাডে  যখনি উপুড় হয়ে নাক ছোঁয়াই রেখা ভাবী অদৃশ্য থেকে যেন বলে ওঠেন – ইয়োগা প্যাডটি ভালো আছেতো ইকবাল ভাই?

ছন্দ যখন খুব জমে ওঠে হয়তো তখনি ছন্দ পতন হয়!  বাড়ি,গাড়ি সন্তান এবং সন্তানদের সন্তান নিয়ে যখন সুখে শান্তিতে পরিপূর্ণ দুলাল দম্পতি তখনি ছন্দের পতন হলো। দুর্দান্ত সুস্থ, দীর্ঘকায় রেখা ভাবীর মাথায় মগজের কোষে জটিল জায়গায় ধরা পড়লো টিউমার। যা অপশারণ অপারেশানে সম্ভব নয়। শুধু মৃত্যুর জন্যে জীবীত হয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিচ্ছুই ছিলোনা করার। গোটা বছর হাসপাতালে শুয়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করলেও ঘাবরে যেতে দেননি পরিবারকে তিনি।ভাব করতেন খুব হাসি খুশি আছেন। দুই মেয়ে দেখতে এলে বলতেন-এই নেইলপালিশ লাগিয়ে দিয়ে যেও! দুলালকে বলতেন –আবার এলে নানা রকম অনেক টিপ এনে দিওতো! একে একে কোপালে দিয়ে দেখবো কোনটা কেমন লাগে। অবশেষে একদিন ঠিকই চলে গেলেন রেখা ভাবী। দুলাল তখনি বুঝলো শূণ্যতা কত ভয়াবহ। স্মৃতিময় দোতলার বেড রুমে আর দুলাল ঘুমোতে পারতোনা। তাই লিভিংরুমের লম্বা সোফায় ঘুমায়। তাও প্রায় রাত বিরাতে হুড়মুড় করে উঠে গিয়ে দেখে সাদা হাল্কা জ্যোৎস্নার মত রেখা দোতলার কাঠের সিড়ি দিয়ে নেমে আসছে। নিঃশব্দে বলছে –ঢং কর কেন! উপরে গিয়ে ঘুমাও। ঘুরে কিচেনের দিকে গিয়ে সব অগোছালো আধোয়া পড়ে থাকতে দেখে মুখ ঘুরিয়ে অপলক ভ্রু কুচকে তাকিয়ে থাকে। আজ আমার মত ১৫ই জুলাই তাদের বিয়ের রাত। আজ রাতে কি তিনি আসবেন?

- Advertisement -
পূর্ববর্তী খবর
পরবর্তী খবর

Related Articles

Latest Articles