
বৎসরে একবার আমাকে কানাডার রাজধানী অটোয়া যেতে হবে আমার ছেলে, তার বৌ এবং আমার পৌত্রীকে দেখতে। ৪ মাস আগে টিকেট কেটে রেখেছিলাম ফ্লাইটের সেই সাথে অন্যান্য ব্যবস্থাও। ২৮ জুন দিবাগত রাত ১২২০ এর ফ্লাইট হঠাত নোটিশে জানলাম এক ঘন্টা বিলম্বে ছাড়বে। একটু চিন্তায় পড়লাম কারন সকালে টরন্টো থেকে কানেকটিং ফ্লাইট।
এয়ারপোর্টে টরন্টো-অটোয়া ফ্লাইট সিডিউল চেন্জ করে দিতে অনুরোধ জানালাম। এয়ার কানাডার এজেন্ট জানালো টরন্টো গিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে ঠিক করে নিয়ো। আবার কি ঝামেলায় পড়বো এই চিন্তা করে বললাম তুমি চেন্জ করে দাও। টরন্টো থেকে সকাল ১০টার ফ্লাইটে সে টিকেট কনফার্ম করে দিলো। ইয়েলোনাইফ এয়ারপোর্টে একটি বড়সড় বোয়িং এ উঠৈলাম রাত ১২-৪৫ মিনিটে।
১-২০ মিনিটে প্লেন আকাশে উড়লো। আমি যখন রাত ১১টায় বাসা থেকে বেরিয়েছি তখনও দিন এখনও দিনের আলো আছে। আকাশ থেকে প্লেনের জানালা দিয়ে দেখলাম দ্বিগন্ত রেখা এক পাশে লাল। বুঝতে কষ্ট হতে পারে কারন এ আলো সূর্য ডোবার দিন শেষের না সূর্য উঠার দিন শুরুর। এটা এ এলাকার কারন এটি মেরু অন্চল এখানে ২৪ ঘন্টাই বছরের কিছু সময় দিন থাকে এই আলো তারই পরিচয় বহন করে।
একপাশে দ্বিগন্ত রেখার লাল আলো দেখছি। প্লেনের ক্রু এক কাপ জুস আর ছোট দু প্যাকেট কটকটি দিলো তাই বসে খাই আর চিন্তা করি সকালে পৌছাবো। একটু ঘুম পেয়েছিলো । ঘুম ভাংতেই দেখি দ্বিগন্ত রেখা আরো বেশী লাল বুঝলাম দিনের শুরু হয়েছে। সকাল ৬টায় টরন্টো এয়ারপোর্ট নামলাম। আমার চিন্তা পরবর্তী ফ্লাইট ধরার। এয়ার কানাডার এজেন্টরা বলছে অটোয়া গেলে ৩৩ নং গেটে যাও। ফ্লাইট সিডিউলে চোখ রাখতেই দেখি যে ফ্লাইটে প্রথমে শিডিউল ছিলো সেটি তখনও ৩৩ নং গেটে অপেক্ষা করছে।
ধিরে ধিরে এগিয়ে এজেন্টকে বোর্ডিং কাড দিয়ে বললাম
-তোমার এই ফ্লাইটে যদি সিট থাকে তাহলে আমাকে অটোয়া যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারো?
আমার আই, ডি টা দেখে সে বললো
-Done.
বললাম
-No middle seat
হেসে বললো
-মাঝের কোন সিট দেইনি।
আমার ফোনে নিয়মিত মেসেজ আসছে এয়ার কানাডা থেকে নতুন ফ্লাইট নং, গেট নং জানিয়ে। আমি ছেলে কে ফোন দিয়ে বললাম সকাল ৯-১৫ মিনিটে ল্যান্ড করবো। সে বললো তুমি যে গেট দিয়ে বাইরে আসবে তার নংটা আমাকে দিয়ো তাহলে সরাসরি তোমাকে উঠিয়ে নেব গাড়ীতে।
অটোয়া এয়ারপোর্টে ১০ নং গেট দিয়ে বেরিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে আছি, অল্প পরে ছেলে রক্তিম এলো। আমি গাড়ীতে উঠলাম। পেছনে তার মেয়ে আর মেয়ের ‘মা’।
দাদু ভাই লিলিকে বললাম
-তুমি কি জানো আমি কোথা থেকে এলাম।
-From Bangladesh,
-না,
-Then from no. 10
সে শুনেছে যে আমি ১০ নং গেট দিয়ে বরিয়ে বাইরে থাকবো।
তাকে বললাম
-আমি বাংলাদেশে থাকিনা আপু, আমি কানাডা থাকি।
লিলি কিছুটা ভাবলেশহীন চুপ করে রইলো।
আমার হাতে দুটি খাম একটিতে লিলির নাম লেখা আর একটি তার বাবা মা এর নাম। লিলির হাতে দিয়ে বললাম তোমার মাকে দাও সে তাকে দিলো। লিলির ভবিষ্যতের জন্য কিছু সন্চয় করানোর জন্য আমার এ প্রয়াস।
ছেলেকে বললাম কোন একটি মলে নিয়ে চলো। আমি ব্রেকফাষ্ট করিনি। একসাথে ব্রান্চ করবো। ব্রেক ফাষ্টের সময় চলে গেছে।
সারাটি দিন আনন্দে কাটলো। ছেলে তার মেয়ে ও বৌ মাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে এসে আমার সাথে গল্প করলো, তার পছন্দের খাবার খেলো। বললাম
-টরন্টোর ট্রেন সন্ধা ৬টায় কাজেই ৫৩০. মিনিটে অটোয়া ষ্টেশনে নামিয়ে দিয়ো।
-এতো কম সময়?
আমার আইটি প্রফেশানালয়িষ্ট ছেলের জন্য শনিবার টাই ফ্রি। সেটাই তাকে মনে করিয়ে দিলাম।
ষ্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে, কথা বলছে।
বললাম- তুমি যাও, ট্রেনের সময় কাছে চলে আসছে।
-আর একটু কথা বলো,
তার অনুরোধ।
এভাবে ২০ মিনিট কাটলো। ষ্টেশনে এসে দেখি ট্রেন দাড়িয়ে আছে।
৪ঘন্টার যাত্রা এক ঘন্টা বিলম্বে রাত ১২-৩০ এ পৌছালাম টরন্টো ষ্টেশনে। সেখান থেকে সাবওয়ে ট্রেন ধরে বড় বোনের বাসায়।
ইয়েলোনাইফ, নর্থওয়েস্ট টেরিটোরিজ

