
আমার পডাশুনার উচ্চতর ডিগ্রী পৃথিবীর আদি সংস্কৃতি কৃষিতে। পড়াশুনা শেষে চাকুরি করতে হয়েছিল পোস্টাল সার্ভিসে। সেটিও বাঙালির আদি সংস্কৃতির অংশ। প্রবাসে এসে যা করছি তার সাথে উপরের দুটির সম্পর্ক নেই তবে কৃষিকে আমি ভুলিনি। আমার জীবিকার বাইরের বাকী সময়টুকু কাটে কৃষি নিয়ে। এই প্রবাসে আমার যেটুকু অর্জন তা কৃষির কারনেই।
বাগান আমার স্বত্তার আর একটি অংশ। আমার এই শখ ছোটবেলার। সাদুল্লাপুরের বিরাহীমপুর, গাইবান্ধার পলাশ পাড়া, ঢাকার উত্তরা, টরন্টোর নাইন ক্রিসেন্ট হয়ে গুলেল্ফের বার্টন রোড সবখানেই এই বাগানের অস্তিত্ব ছিলো এবং আছে। এখন আমার বাগান শহরের সেরা বাগানের তকমা হয়তো পায়নি, সেটি আমার সমস্যা নয় সিটির সীমাবদ্ধতা। তারপরও এই বাগানের কারনেই আমার অর্জন কম নয়।

১। আমি গাছপালা নিয়ে লেখালেখি করি। মন দিয়ে বাগান করি। আনন্দের আতিশয্যে বাগানের অজস্র ছবি ফেসবুকে পোস্ট করি। এসব দেখেই হয়তো যোগাযোগ করেন ঢাকার বৃক্ষ প্রেমী কাজী হাসান। তাঁর প্রতিষ্ঠানে সোনারং তরুছায়া থেকে ২০২১ সালে সেরা প্রবাসী বৃক্ষ প্রেমীর সম্মাননা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে গিয়েছিলাম ঢাকা। আমার ঢাকা যাওয়া উপলক্ষে সে বছর ২৫ ডিসেম্বর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন তিনি।
২। আমরা আঙিনার কৃষি গুয়েল্ফের সক্রিয় কর্মী ২০১৭ সাল থেকে। আঙিনার কৃষির প্রতিষ্ঠাতা শিবব্রত নন্দী দাদা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত খরচে মাঝেমধ্যে একটি পদক দেন। এই পদক তাঁর স্বর্গীয় বাবা মার স্মরণে । দ্বিতীয় বছরের এই পদক পেয়েছিলাম আমরা। আঙিনার কৃষি এবং গুয়েল্ফের সামাজিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদানের জন্য। গুয়েল্ফের ফেডারেল এমপি লয়েড লংফিল্ড এবং প্রভিন্সিয়াল এমপি মাইক স্রেনিয়ারের উপস্থিতিতে আমরা এই পদক গ্রহণ করি গুয়েল্ফের শ্রদ্ধেয় প্রবীণ বাঙালি করিম ভাইয়ের কাছ থেকে।
৩। আঙিনার কৃষির তত্ত্বাবধানে গুয়েল্ফের এমপি, এমপিপি, সিটি মেয়রের প্রতিনিধি প্রতিবছর কিছু সেরা বাগান পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনে তাঁদের আগ্রহটাই বেশি। গতবছর আমার বাগান দেখতে এসেছিলেন ফেডারেল এমপি লয়েড লংফিল্ড, প্রভিন্সিয়াল এমপি মাইক স্রেনিয়ার এবং গুয়েল্ফ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন হর্টিকালচারিস্ট । বাগান দেখে তাঁদের প্রশংসার বন্যায় ভেসেছিলাম আমরা।

৪। এবারে আঙিনার কৃষির চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে এসেছিলেন গুয়েল্ফের নবনির্বাচিত ফেডারেল এমপি ডমিনিক অরুখ, নবনির্বাচিত এমপিপি মাইক স্রেনিয়ার এবং গুয়েল্ফ ডিস্ট্রিক্ট মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যালের প্রেসিডেন্ট আনু স্যাক্সোনা-। আমাদের কর্মসূচির প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে নিজেই আমাদের ছবি তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন ডমিনিক। তাঁর এই উচ্ছ্বাস আমার আঙিনার কৃষির কর্মী হিসেবে শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি ।
৫। প্রতিবছর গুয়েল্ফ এবং ডিস্ট্রিক্ট মাল্টিকালচারাল কমিটি মালিটিকালচারাল উৎসব উপলক্ষে ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে এওয়ার্ড প্রদান করে। এবার “Community Builders Award 2025” পেয়েছে আঙিনার কৃষি। এ এওয়ার্ড নিতে স্টেজে উঠেছিলাম আঙিনার কৃষির প্রতিষ্ঠাতা শিবব্রত নন্দী দুলাল এবং আমি। গুয়েল্ফের ফুড সিকিউরিটি ফুড সেফটি এবং এথনিক কালচারাল বন্ডিং এর জন্য আঙিনার কৃষিকে এ পদক দেয়া হয়।
আমার এই অর্জনগুলোর অর্থমূল্য হয়তো নেই, মনের প্রশান্তি আছে শতভাগ। মনের প্রশান্তি ছাড়া জীবনের চাকা চালিয়ে নেয়া যায় না।
গুয়েল্ফ, কানাডা

